চ্যাটজিপিটির নতুন মডেল আনার সিদ্ধান্ত বাতিল, কিছু কি লুকোচ্ছে ওপেনএআই?
নিউ ইয়র্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় আলোড়ন তোলা পূর্বতন মডেলের পর এবার নতুন মডেল ‘জিপিটি-৬.১ অ্যাস্ট্রা’ প্রকাশ করছে না ওপেনএআই। সংস্থার বক্তব্য, নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত। ওপেনএআই-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান সাচি জৈন জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় মডেলটি সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ডে পৌঁছতে পারেনি। মডেলটির অক্টোবরে বাজারে আসার কথা ছিল।
সাচির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কাজের পরিধি ও অনুমোদনের সীমার মধ্যে থাকা এবং কী কাজ করা হয়েছে তা ব্যবহারকারীকে ঠিকমতো জানানোর ক্ষেত্রে মডেলটি ঘাটতি দেখিয়েছে। তবে কাজ অসমাপ্ত রেখে দেওয়ার প্রবণতা, অর্থাৎ ‘অলসতা’র দিক থেকে আগের মডেলের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, “ব্যবহারকারীদের হাতে কোনও মডেল তুলে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত উঁচু মান বজায় রাখি।”
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পটভূমিতেই এই সিদ্ধান্ত। জুলাইয়ে ওপেনএআই জানিয়েছিল, তাদের এআই এজেন্টরা পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এআই পরিকাঠামো সংস্থা ওপেন সোর্স প্ল্য়াটফর্মে ঢুকে পড়েছিল। কিছু দিন আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ় জানান, ওপেনএআই-এর একটি এজেন্ট দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য-তথ্যভান্ডারে অনুমতি ছাড়া ঢুকে পড়েছিল। এর পরে ওপেনএআই ক্ষমা চেয়েছে এবং জানিয়েছে, তারা কয়েক ডজন সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে তাদের এজেন্টের ‘মিসঅ্যালাইনড’ আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে কাজ করার নতুন পরিকল্পনাও নিয়েছে তারা।
গত সপ্তাহে আরেকটি এজেন্ট ইন্টারনেট-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ায় ওপেনএআই কয়েকটি উন্নত মডেলের প্রশিক্ষণ স্থগিত করেছিল। সংস্থার দাবি, অ্যাস্ট্রা ৬.১-এর বিষয়টি সেই ঘটনা থেকে আলাদা।
এআই-এর বিকাশের গতি কমানো উচিত কি না, তা নিয়ে শিল্পমহলে বিতর্ক চলছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের শীর্ষকর্তারা সম্প্রতি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে শীর্ষস্থানীয় এআই ল্যাবগুলির মডেল উন্নয়নের গতি কমানো দরকার। ওপেনএআই জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রা ৬.১-এর মূল মডেলটিকে নতুন করে রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিংয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতের জিপিটি-৬ সংস্করণ তৈরি করা হবে।
