বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ইতিহাস:‌ মঙ্গলের উপগ্রহে যান পাঠালো জাপান

20 October, 2026 3:46 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

টোকিও:‌ নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে মহাকাশ বিজ্ঞানে। মহাকাশ গবেষণায় ইতিহাস লিখতে চলেছে জাপান। মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহ ফোবোসের উদ্দেশে যান পাঠাল জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জেক্সা। মঙ্গলবারই এমএমএক্স ফর মুন এক্সপ্লোরেশন অভিযানের সূচনা হয়। জানানো হয়েছে, এমএমএক্স ফোবোসের মাটি থেকে নমূনা সংগ্রহের কাজ করবে। পাঁচ বছরের এই অভিযানের সঙ্গে জাপান ছাড়াও যুক্ত রয়েছে আরও চারটি দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।পুরো অভিযানটি যদি পরিকল্পনা মতো এগোয় তাহলে ২০৩১ সালে ফোবোস থেকে মাটি, পাথর সহ অন্য উপাদান নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে এমএমএক্স। এ প্রসঙ্গে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষক টম স্ট্যাটলার জানিয়েছেন, মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক বিরাট দিক খুলে যেতে পারে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে ভীষণ উত্তেজিত।
মঙ্গলের দুটি উপগ্রহের মধ্যে সবচেয়ে কাছেরটি হল ফোবোস। অনেকটা আলুর মতো এবড়োখেবড়ো দেখতে এই উপগ্রহেপ আয়োজন প্রায় ২২ কিমি। বহুদিন ধরেই ফোবোস নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এই উপগ্রহের উপাদান বিশ্লেষণ করা গেলে বহু নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এদিকে এমএমএক্স যানটির ওজন প্রায় ৫ টন। জানা গিয়েছে, সেটিকে ফোবোসের উদ্দেশে পাঠাতে খরচ হয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। আগামী মে–জুন মাসে যানটির মঙ্গলের কাছাকাছি গিয়ে ফোবসের গতির সঙ্গে নিজের গতি খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে। এরপর ফোবোসের বুকে নামানো হবে ল্যান্ডার। এই ল্যান্ডারটি তৈরি করা হয়েছে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে। ফোবোসের পাথুরে মাটিতে ল্যান্ড করতে গিয়ে যদি ল্যান্ডার মুখ থুবড়ে পড়েও যায়, তবু সে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে। এরপর বেরিয়ে আসবে রোভার। যেটি তৈরি করেছে যৌথভাবে ফ্রান্স ও জার্মানি। নাম আইডিফিক্স। এটিই সরাসরি ফোবোসের বুকে পা রাখবে। প্রথম ধাপে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি জেনে বুঝে নিতে ফোবোসের চারিদিকে ১০০ দিন ঘুরে বেড়াবে অইডিফেক্স। এরপর ২০২৮ সালের শেষে বা ২০২৯ সালের প্রথমে মূল ল্যান্ডারটি ফোবোসের বুকে উপাদান সংগ্রহের কাজ শুরু করবে। এই ল্যান্ডার মাত্র ২ ঘণ্টা সময় কাটাতে পারবে ফোবোসের বুকে। তার মধ্যেই যাবতীয় কাজ তাকে সেরে ফেলতে হবে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ফোবোসের মাটি খনন করে ল্যান্ডার ১০ গ্রাম উপাদান সংগ্রহ করবে।
এর আগেও ফোবোস অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিল রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রসকসমস। তবে আশাহত হয়েছিলেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। তাই এবারের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০৩১ সালে ফোবোস থেকে ঘরে ফেরার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় মঙ্গলের দ্বিতীয় উপগ্রহ ডিমোসের কান ঘেঁষে বেরিয়ে আসবে এমএমএক্স। ফলে ডিমোসকেও খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবে জেক্সার মহাকাশ যানটি ।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik