কাল দশমীর মাঝরাতে আকাশজুড়ে উল্কাবৃষ্টি, কোথা থেকে ভালো দেখা যাবে?

সংবাদদাতা, কলকাতা: অক্টোবরের রাতের আকাশে দেখা মিলতে চলেছে এক মহাজাগতিক দৃশ্যের। ২১শে অক্টোবরের মধ্যরাতে থেকে ২২ অক্টোবরের ভোর পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই এই উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ থাকবে। তবে কলকাতা-সহ বড় শহরের আলোকদূষণ এড়িয়ে নির্জন, অন্ধকার জায়গা থেকে দেখলে দৃশ্যটি উপভোগ করার সম্ভাবনা বেশি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আদর্শ পরিস্থিতিতে ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কা দেখা যেতে পারে।
কখন দেখা যাবে?
২০২৬ সালে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সক্রিয় সময় ২ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর। তবে সবচেয়ে অনুকূল সময় ২১ অক্টোবরের গভীর রাত থেকে ২২ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত। বিশেষ করে রাত ৩টে থেকে ভোর ৫টার মধ্যে আকাশ পর্যবেক্ষণ করলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ অস্ত যাওয়ার পরে আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার হলে ক্ষীণ উল্কাগুলিও নজরে আসতে পারে।
কোথা থেকে ভালো দেখা যাবে?
১) হানলে, লাদাখ
২. স্পিতি উপত্যকা, হিমাচল প্রদেশ
৩. কচ্ছের রণ, গুজরাত
৪. পশ্চিমবঙ্গের শহরতলি ও গ্রামাঞ্চল
কলকাতা থেকে দূরে, যেখানে রাস্তার আলো ও বসতির উজ্জ্বলতা কম এবং দিগন্ত খোলা, সেখান থেকেও উল্কাবৃষ্টি দেখা সম্ভব। তবে নির্দিষ্ট কোনও স্থানকে সেরা বলা যাবে না—সেদিনের মেঘ ও স্থানীয় আলোকদূষণই মূল বিবেচ্য।
ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হ্যালির ধূমকেতু। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় ধূমকেতুটি মহাকাশে ধুলো ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণা ছড়িয়ে রেখে যায়। প্রতি বছর অক্টোবর মাসে পৃথিবী সেই কণার বলয়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। কণাগুলি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঘণ্টায় প্রায় ২ লক্ষ ৩৭ হাজার কিলোমিটার বেগে প্রবেশ করে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। রাতের আকাশে তখন দেখা যায় ক্ষণস্থায়ী আলোর রেখা—যাকে আমরা বলি ‘উল্কাপাত’ বা ‘তারা খসা’।
হ্যালির ধূমকেতু শেষবার পৃথিবীর কাছাকাছি এসেছিল ১৯৮৬ সালে। আবার আসার কথা ২০৬১ সালে। কিন্তু তার রেখে যাওয়া মহাজাগতিক ধুলিকণার সৌজন্যে প্রতি বছরই পৃথিবী থেকে দেখা যায় এই উল্কাবৃষ্টি।
