সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙার তীব্র নিন্দা আরএসএস নেতা জিষ্ণু বসু, মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের
* ক্ষমতার দম্ভে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে: জিষ্ণু বসু
* বইয়ের স্টল ভাঙার খবর শুনে লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হয়ে গেল: স্বপন দাশগুপ্ত
সংবাদদাতা, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আবহে দিকে দিকে সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙা, অগ্নি সংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এবার এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করলেন আরএসএসের বিশিষ্ট সাংগঠনিক নেতা জিষ্ণু বসু এবং রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
জিষ্ণু বসু বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা থাকলেও বইয়ের স্টল ভাঙচুরের মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিরোধী থাকার সময় আমাদের স্টলও ভাঙা হতো। আমরা জানতাম, যত এইসব কাজ হবে, ততই মানুষের ঘৃণা জুটবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দলের ছেলেরা বইয়ের স্টল ভাঙছে, একথা জানার পর লজ্জায় আমার মাথা হেঁট হয়ে গেল।
দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন এলাকায় সিপিএমের বুকস্টল বসানোকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বারাসতে সিপিএমের বুকস্টলে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, কলকাতার যাদবপুরে ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে সিপিএমের বুকস্টল সরাতে পুরসভার কর্মীদের উপস্থিতি ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। বুকস্টল বসানোর অনুমতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
জিষ্ণু বসু এই ঘটনার নিন্দা করে বলেন, যারা এইসব কাজ করছে, তারা হিন্দু নাম নেওয়ার যোগ্য নয়। এসব হিন্দু ভাবনার বিরোধী। ক্ষমতার দম্ভে তারা একটা আদর্শকে ধুলোয় লুটিয়ে দিচ্ছে। যারা এসব কাজ করছে, তারা কাপুরুষ। হিন্দুত্ব এই কাপুরুষতাকে স্বীকার করে না। ক্ষমতার দম্ভে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঘটনার নিন্দা করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও। তিনি বলেন, ওরা নাস্তিক, এই বলে যারা স্টল ভাঙছে, তারা ভুল করছে, হিন্দুত্বে নাস্তিকতারও স্বীকৃতি আছে। তাছাড়া ওরা নাস্তিক হলেও পুজোকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। কিন্তু ওই অজুহাতে কেউ গুন্ডামি করবে, তা আমি মেনে নেব না। সব থেকে খারাপ লাগছে, যারা এইসব করছে, তারা আমাদের দলের নামে এইসব করছে। বই সবসময় বই, কার লেখা কী বিষয়, কে কী পড়বে, সেটা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।
আরএসএসের একজন প্রথম সারির নেতা ও রাজ্যের একজন প্রথম সারির মন্ত্রীর এই তীব্র নিন্দা রাজনৈতিক বিতর্কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
