সোনার খনিতে ভযাবহ ধস, মৃত কমপক্ষে ১৪

বোগোতা: সোনার খনিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মৃত্যু হল কমপক্ষে ১৪ জনের। আহত আরও ৭। দক্ষিণ–পশ্চিম কলম্বিয়ার নারিনো অঞ্চলের ঘটনা। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, চাম্বেইরোতে এলাকায় থাকা এই খোলা মুখ সোনার খনিটি অবৈধ ছিল। সে দেশের সংবাদমাধ্যমকে প্রশাসন জানিয়েছে, ধসের পর নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি শুরু হয়। কিন্তু জায়গাটি এতটাই দুর্গম ছিল যে মৃতদেহ উদ্ধার করতে রীতিমত নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে উদ্ধারকারী দলকে। এলাকাটি রেইনফরেস্ট বা বনবেষ্টিত হওয়ায় সেখানে যাতায়াত অত্যন্ত দুর্গম। কেবল নৌকো বা ছোট বিমানের সাহায্যেই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব।
নারিনো অঞ্চলটি ইকুয়েডরের সীমান্তবর্তী এলাকা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে সোনার খোঁজে অবৈধ খননকার্য চলছে। সেই সঙ্গে সোনার অবৈধ ব্যবসা, মাদক পাচার এবং তোলাবাজির মতো অপরাধমূলক কাজও এখানকার প্রাত্যহিক ঘটনা। নারিনো অঞ্চলটি অতি দুর্গম হওয়ায় এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ । এলাকার প্রায় সব মানুষই কমবেশি এরকম অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছ, স্থানীয় মানুষের সামনে বিকল্প জীবিকার সুযোগ এখানে নেই বললেই চলে। ফলে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ কাজকর্ম করে।
তবে প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিককালে এতবড় দুর্টনা ঘটেনি।
দুর্ঘটনা পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, অনিয়ন্ত্রিত খননকার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসন কেন পদক্ষেপ করছে না? সেই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারি নজরদারি, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা এবং দ্রুত উদ্ধারকাজের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই ঘটনার পর গভর্নর দেশের খনি ও জ্বালানি মন্ত্রকের কাছে অবৈধ ও ক্ষুদ্র খনিগুলোর দ্রুত বৈধকরণ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
