ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ দায়িত্বে ৯ আইপিএস আধিকারিক, নজর কাড়ছে পুলিশের শোলার লাঠি

সংবাদদাতা, কলকাতা : উত্তর কলকাতার চোরবাগানের মর্মান্তিক ও ভয়াবহ ঘটনা কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের কাছে বড় শিক্ষা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই নবান্নের নির্দেশে কলকাতায় পুজো সামলানোর দায়িত্ব পালনে নিয়োগ হয়েছেন ৯ জন আইপিএস। এই ৯ জন আধিকারিকের ওপর দায়িত্ব রয়েছে শহর কলকাতায় পুজোযর ভিড় সামলানো থেকে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ— সমস্ত বিষয়টির তত্ত্বাবধান করা।
এই ৯ আধিকারিকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলেন, আইজি ট্রাফিক মিরাজ খালিদ, ডিআইজি এসটিএফ রূপেশ কুমার, ডিআইজি ট্রাফিক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, এসপি ট্রাফিক প্রিয়ব্রত রায়, এসপি সিআইডি দীপক সরকার।বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে আইজি পদমর্যাদার রয়েছেন আইপিএস মিরাজ খালিদ। যিনি আগে কলকাতা পুলিশের আইন–শৃঙ্খলার দিকটি দেখভাল করেছেন। তৃণমূল সরকারের আমলে যুগ্ম নগরপাল (সদর) পদে নিযুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে ডিআইজি এসটিএফ রূপেশ কুমার কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম নগরপাল ছিলেন। এছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে। বর্তমানে তিনি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ট্রাস্ক ফোর্সের ডিআইজি পদে নিযুক্ত আছেন। অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের ডিআইজি ট্রাফিক পদে নিযুক্ত রয়েছেন শুভঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনি আগে কলকাতা আর্মড পুলিশের যুগ্ম নগরপাল পদে নিযুক্ত ছিলেন।
এছাড়াও রয়েছেন রাজ্য পুলিশের সিআইডির পুলিশ সুপার (এসপি) দীপক সরকার এবং রাজ্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সুপার (এসপি) প্রিয়ব্রত রায়।
তাদের নবান্নের নির্দেশে কলকাতার পুজো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হল। কলকাতার দক্ষিণের বড় পুজোগুলির মধ্যে চেতলা অগ্রণী এবং সুরুচি সংঘ সহ আশেপাশে সমস্ত পুজোর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছেন মিরাজ খালিদ। তার সঙ্গে সহকারি দায়িত্বে রয়েছেন এসপি প্রিয়ব্রত রায়। এছাড়াও রয়েছেন ডিসি সাউথ রাহুল দে, ডিসি ওয়ারলেস শুভ্রেন্দু কুমার এবং একাধিক স্থানীয় পুলিশ অফিসার ও কর্মীরা। আইজি মিরাজ খালিদ নিজে পুজো প্যান্ডেল ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন ও নজরদারি করছেন। প্রতিটি প্যান্ডেল নিজে ঘুরে নজরদারি চালাচ্ছেন। যাতে কোনও রকম অস্বাভাবিক ঘটনা না ঘটে। বা পরিবহনের কোনও সমস্যা না হয়, ভিড় নিয়ে যাতে কোনও রকম বিশৃঙ্খলার তৈরি না হয় তা এখার জন্য।
অন্যদিকে, ডিআইজি এসটিএফ রূপেশ কুমার দক্ষিণ কলকাতার বড় পুজোগুলির মধ্যে ত্রিধারা ও দেশপ্রিয় পার্কের পুজো সহ তার আশেপাশের পুজোগুলির ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম নগরপাল ভোলানাথ পান্ডে সহ অন্য আধিকারিকরা।
অন্যদিকে ডিআইজি ট্রাফিক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য দক্ষিণ কলকাতার বড় পুজোগুলির মধ্যে একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংহী পার্ক সহ আশেপাশের একাধিক পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন।
অন্যদিকে সিআইডি এসপি দীপক সরকার কলকাতার উত্তরের জগৎ মুখার্জি পার্ক, কুমারটুলি সহ ওই এলাকার পুজোগুলির দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, শহর কলকাতায় পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার একই সঙ্গে নজর কাড়ছে শোলার লাঠি। সেই লাঠি দিয়েই চলছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এক আধিকারিক জানান, এই শোলার লাঠি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হল, দূর থেকে দেখলে মনে হবে লাঠি। কিন্তু কারোর গায়ে জোরে আঘাত লাগবে না বা কোনও ব্যথা বা চোট লাগবে না। এই লাঠি দেখিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণে আনাও অনেক বেশি সহজ হচ্ছে। দুর্গাপুজো দেখতে আসা মানুষের ভিড় এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এই শোলার লাঠি যথেষ্টই উপযোগী এবং সহায্যকারী বলেই দাবি আধিকারিকদের।
