বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

একই ঘরে দুই অবিশ্বাস্য প্রতিভা! স্বামী পেলেন নোবেল, আগামী বছরে কি স্ত্রী?

08 October, 2026 4:04 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

স্ট্যানফোর্ড: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল ডাইসারোথ এবছর মেডিসিনে নোবেল পেলেন। তিনি এমন একটা বিষয়ের জন্য নোবেল পেলেন, যা ভবিষ্যতে মানব মস্তিষ্কের চিকিৎসার গতিপথ পাল্টে দেবে। তাঁর কাজের জন্য তিনি নোবেল-স্বীকৃতি পেলেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রীও এক অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। লেখার সঙ্গের ছবিটিতে কার্লের পাশে যে মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি তাঁর স্ত্রী মিশেল মনজে। মিশেল মনজে নিজেও একজন বিশ্বখ্যাত নিউরো সায়েন্টিস্ট। ক্যান্সার চিকিৎসায় এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন মিশেল। শিশুদের ক্যানসার নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

কার্ল বলেছিলেন, মিশেল মনজের সাহায্য ছাড়া তাঁর পক্ষে এই সাফল্য পাওয়া সম্ভব ছিল না। দু’জনেই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। কার্ল যেমন স্ট্যানফোর্ডের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং ও সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক। মিশেল তেমনি নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক। বর্তমান বিশ্বে এই দম্পতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী দম্পতি হিসেবে ধরা হয়। কারণ তাঁরা নিজেদের ল্যাবরেটরি আলাদাভাবে পরিচালনা করার পাশাপাশি অনেক জটিল স্নায়বিক রোগ ও ক্যান্সার গবেষণায় যৌথভাবেও কাজ করেছিলেন। দু’জনের কাজের মধ্য একটা নিবিড় যোগ আছে।

কার্ল ডাইসারোথ এমন এক উদ্ভাবন করেছেন, যা ইঁদুরের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ভবিষ্যতে তা মানুষের ক্ষেত্রেও সফল হবে। কার্ল নোবেল পেয়েছেন অপটোজেনেটিক্স এর জন্য।  মূলত অপটোজেনেটিক্স হল এমন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে আলোর সাহায্যে জীবন্ত প্রাণীর মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষ বা নিউরনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

এই প্রযুক্তির উদ্ভাবন মানব মস্তিষ্কের জটিল রহস্য উন্মোচনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল। কারণ এখন পর্যন্ত গবেষকরা জানতে পেরেছেন কীভাবে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট সার্কিট মানুষের স্মৃতি, অনুভূতি এবং আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।  যা বিষণ্ণতা, অটিজম, সিজোফ্রেনিয়ার মতো জটিল মানসিক রোগের উৎস বুঝতে সাহায্য করছে। অন্ধত্ব দূর করতে এবং মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার গবেষণাতেও অপটোজেনেটিক্স পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও নিখুঁতভাবে হবে।

কার্ল ডাইসারোথরা এই পরীক্ষাটি চালিয়েছেন ইঁদুরের উপর। সেখানে দেখা গেছে, বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোষে আলো ফেলে তার ভয়, ক্ষুধা, রাগ বা স্মৃতির মতো বিষয়গুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে চালনা বা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। কার্লের আগে দুই জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল একটি এককোষী শৈবালের মধ্যে ‘চ্যানেলরোডোপসিন’ নামের এক প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। পরে কার্ল ডাইসারোথ ওই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষের জন্য একটি আলোক-নিয়ন্ত্রিত সুইচে রূপান্তর করেন। পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলও কার্লের সঙ্গে এ বছর নোবেল পেয়েছেন।

অন্যদিকে মিশেল মনজে আবিষ্কার করেছেন ব্রেন ক্যান্সার কীভাবে মস্তিষ্কের সিগন্যাল হাইজ্যাক করে বৃদ্ধি পায়, যা ক্যান্সার চিকিৎসায় এক বিশাল মাইলফলক ধরা হয়। কার্ল সরাসরি চিকিৎসা না করলেও মিশেল কিন্তু নিজে প্র্যাকটিসিং ডাক্তারও।  মিশেল তাঁর ল্যাবের আবিষ্কারকে সরাসরি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহার করেন। এই দুই অবিশ্বাস্য প্রতিভা যখন এক ঘরে, সেখানে ভবিষ্যতে আরও একটি নোবেল আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha