বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

বিজয়ার মিষ্টিতে দামের ছ্যাঁকা: চিনি-দুধের দাম চড়ায় পানসে উৎসব, তবু মিষ্টিমুখে ভাটা নেই বাঙালির

21 October, 2026 10:13 AM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: বিজয়া মানেই মিষ্টিমুখ। মিহিদানা, সীতাভোগ থেকে রসগোল্লা, গজা বা রং-বেরঙের ফিউশন মিষ্টি, তালিকার শেষ নেই। কিন্তু এ বছর দামের আঁচে সেই মিষ্টির স্বাদ যেন কিছুটা পানসে হয়ে গিয়েছে গৃহস্থের কাছে। উৎসবের মরশুমের আগে থেকেই দেশজুড়ে চিনির দাম বেড়েছে, সঙ্গে চড়েছে দুধের দামও। তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মিষ্টির বাজারে। রসগোল্লা থেকে সন্দেশ, এমনকী সীতাভোগ ও মিহিদানার দামও বেড়েছে। পুজোর সময় সেই দাম আরও খানিকটা বেড়েছে, আর সঙ্গে মিষ্টির আকারও হয়েছে কিছুটা ছোট।

কলকাতার ব্র্যান্ডেড দোকান তো বটেই, মফস্বলের ছোটখাটো দোকানের শোকেসেও ১০-১২ টাকা পিসের মিষ্টি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বিজয়ার মিষ্টি কিনতে এবার বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।ব্যবসায়ীদের কথায়, ৪৮ টাকা কেজির চিনি কয়েক মাস ধরেই খুচরো বাজারে ৬৫-৭০ টাকায় পৌঁছেছে। তখনই কয়েকটি মিষ্টির দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছিল। পুজোর মধ্যে তা আরও বেড়েছে। শুধু মিষ্টি নয়, ময়দা-সহ অন্যান্য উপকরণের দামও বাড়ায় বিজয়ার কুচো নিমকি ও ছোট গজারও দাম চড়েছে।

বহরমপুরের এক মিষ্টি দোকানের কর্মী জানান, রসগোল্লার দাম পিছু ১-২ টাকা করে আগেই বাড়ানো হয়েছিল, এখন তা আরও কিছুটা বেড়েছে। মিহিদানা ও সীতাভোগের দাম কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে মাস দুয়েক আগে হয়েছিল ২৭০ টাকা। পুজোর সময় তা পৌঁছেছে ৩০০ টাকায়। উন্নত মানের সীতাভোগের দাম ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা। বিজয়া উপলক্ষে প্রায় সব দোকানেই নানা ফিউশন মিষ্টি তৈরি হয়, যার দাম রোজকার মিষ্টির চেয়ে বরাবরই বেশি থাকে। এবার সেই দামও আরও বেড়েছে। বাগুইআটির এক ব্যবসায়ী জানালেন, পুজোর মরশুমে দুধের চাহিদা প্রচুর বেড়ে যায়। যে কোনও দামেই মিষ্টির দোকানদাররা প্রয়োজনমতো দুধ কিনতে চান, ফলে দুধের দাম হু হু করে চড়ছে।

দাম যতই বাড়ুক, এই দিনে অতিথিকে মিষ্টিমুখ করাতে ভোলে না বাঙালি। শহরে প্রতিবেশীর বাড়ি বাড়ি মিষ্টি পৌঁছে দেওয়ার চল কিছুটা কমলেও গ্রাম ও মফস্বলে তা এখনও রয়েছে। তাই দশমীর সকাল থেকেই মিষ্টির দোকানে লম্বা লাইন পড়বে বলে আন্দাজ ব্যবসায়ীদের। সেই হিসেব করেই সারারাত জেগে চলেছে মিষ্টি তৈরির কাজ। এই সময় কারিগরদের বাড়তি মজুরিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন দোকানদাররা।

প্রতিবেদন

UTSAB RC