টাইগার শ্রফের উপর হামলা: অমৃতসর থেকে এসেছিল পিস্তল, মুম্বইয়ে ধৃত আরও ৪

মুম্বই: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে বড় অগ্রগতি। মঙ্গলবার দিল্লি ও সোনিপত থেকে আরও চার জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ, তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলাও আছে। এর আগে রাজস্থানের কোটা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তিন জনকে। ইতিমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠেরা। পুলিশ জানতে পেরেছে, হামলার জন্য সুদূর অমৃতসর থেকে পিস্তল ও গুলি মুম্বইতে আনা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতেরা হলেন ২১ বছরের কুণাল, ১৯ বছরের সুমিত, ২৩ বছরের রাধা এবং ২৩ বছরের ববিতা। হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজেই তাঁরা জড়িত ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রানজিট রিমান্ডে চার জনকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। আগে ধৃত তিন জন রয়েছেন মুম্বই পুলিশের হেফাজতে।
ডিসিপি প্রবীণকুমার ত্রিপাঠীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কুণাল জেলে ছিল এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়। এক বন্ধু তাকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অনিলের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। অনিলের নির্দেশে কুণাল অমৃতসর থেকে প্রথমে একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করে। মাস দুয়েক আগে রাধার সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। পিস্তল নিয়ে মুম্বই যেতে রাধাকে রাজি করায় সে। ১৫ অক্টোবর রাধা ও তাঁর বান্ধবী ববিতাকে নিয়ে কুণাল নয়াদিল্লি স্টেশনে পৌঁছয়। রাধার ব্যাগেই ছিল পিস্তল। ১৭ অক্টোবর তারা দাদর স্টেশনে নামে। পুরো সময় একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন কুণাল। দাদরে নেমে একটি হোটেলে ওঠে রাধা ও ববিতা। সকাল ১১টা নাগাদ পিস্তলের ব্যাগটি তাঁদের কাছ থেকে নিয়ে যায় এক কিশোর। পরের দিন, ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, টাইগার আদৌ হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্য ছিলেন না, নিশানায় ছিলেন সলমন খান। বিশ্নোই গ্যাংয়ের সদস্যরা বান্দ্রায় সলমনের বাড়ির সামনে ঘুরে এসেছিল। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তার কড়াকড়ি দেখে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। তার পরেই সলমনের ঘনিষ্ঠ টাইগারকে নিশানা করে তারা। ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় পর পর গুলি চলে টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে। অভিনেতার আঘাত না লাগলেও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক ও এক ভক্ত, দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্নোই ঘনিষ্ঠ গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিত ও হরমন সান্ধু সমাজমাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেছেন।
ঘটনার পর টাইগার ও সলমনের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। সলমনের অন্য ঘনিষ্ঠদের নিরাপত্তাও জোরদার করেছে পুলিশ। বান্দ্রায় সলমনের বাড়ির সামনে রাস্তার উপর বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।
