স্কুলপড়ুয়াদের জন্য সারথির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
সংবাদদাতা, হাওড়া: রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর একাধিক সরকারি সামাজিক প্রকল্পের নাম বদলের উদ্যোগ নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তৃণমূল জমানার অন্যতম চর্চিত ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের জায়গায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয় নতুন সাইকেল বিতরণ প্রকল্প ‘সারথি’। হাওড়ার মধুসূদন পাল চৌধুরী হাইস্কুলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নতুন এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগের সরকারের আমলে কেবল নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা সাইকেল পেত, তবে এখন থেকে অষ্টম শ্রেণিতেই পড়ুয়াদের হাতে সারথির নতুন সাইকেল তুলে দেওয়া হবে। চলতি শিক্ষাবর্ষেই রাজ্যের ১২.৫৯ লক্ষ স্কুলপড়ুয়া এই সুবিধার আওতায় আসবে। প্রকল্প সূচনার পর মুখ্যমন্ত্রী স্কুলেই জেন-জি তথা তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে মিড ডে মিলের খাবার খান এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য নীল-সাদা রং এবং বিশ্ববাংলা লোগো বাতিল করে নতুন সাইকেল সাজানো হয়েছে গেরুয়া রঙে। তবে কেবল নামে নয়, সাইকেলের মানের দিক থেকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দাবি সরকারের। অতীতে বিতরণ করা সাইকেলগুলির গুণমান নিয়ে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠত। সাইকেলের যন্ত্রাংশ সহজে খুলে যাওয়া কিংবা গুদামে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে জং ধরে নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা রুখতে এবার ভালো মানের সাইকেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
এদিন মঞ্চ থেকে প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, আগে পাঞ্জাব থেকে সাইকেলের কলকব্জা ও যন্ত্রাংশ এনে এ রাজ্যে অ্যাসেম্বল করা হতো। প্রাক্তন সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আধিকারিক এবং তাঁর পরিবারের নিকট আত্মীয়রা সেই বরাত পেতেন।এই ধরনের ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকল্পটিকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করার আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে স্থানীয় শিল্পায়নে গতি আনতে মুখ্যমন্ত্রী এক বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ভিনরাজ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যারা পশ্চিমবঙ্গেই সাইকেল ও তার কলকব্জা তৈরির কারখানা গড়বে, রাজ্য সরকার তাদের জমি ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত সহায়তা দেবে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রকল্পের সাইকেলের গুণমান নিশ্চিত হবে, তেমনই রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
