৫০ বছর পর ফের তেহরানের আকাশে UFO! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল চর্চা
তেহরান: ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে হঠাৎ উজ্জ্বল, রঙিন আলো। একটি রহস্যময় বস্তু ভেসে থাকার একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তা নিয় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের একাধিক স্থান থেকে ভিডিওগুলি রেকর্ড করা হয় ও শেয়ার করা হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাতের আকাশে নিচু দিয়ে উড়ছে বা ভেসে রয়েছে একটি বস্তু। এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি তেহরানের আজাদেগান এক্সপ্রেসওয়ের কাছে ঘটেছে।
বস্তুটির সঠিক অবস্থান, উচ্চতা, গতি বা আকার সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি তথ্য নেই। ইরানের প্রশাসনের তরফেও বস্তুটিকে শনাক্ত করে বা তাকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে কোনও বিবৃতি আসেনি। ভিডিওগুলি স্বাধীনভাবে যাচাইও করা যায়নি। আর বস্তুটি কোনও অজ্ঞাত উড়ন্ত যান, সামরিক ড্রোন বা অস্বাভাবিক কিছু, তারও নিশ্চিত প্রমাণ নেই। ভিডিও ঘিরে একাধিক তত্ত্ব ঘুরছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি সামরিক ড্রোন বা একসঙ্গে ওড়া একাধিক ড্রোন হতে পারে। অন্যদের প্রশ্ন, দূর থেকে দেখা ঘুড়ি বা অন্য কোনও বস্তুর আলোই কি এমন দেখাচ্ছে?
ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে চড়া উত্তেজনার মধ্যেই এই ভিডিওগুলি সামনে আসতেই নজরদারির তত্ত্বও উঠে আসছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর ইরান ও আমেরিকা নতুন করে এক অন্যকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের সেনা সতর্ক করেছে, দেশ ফের আক্রান্ত হলে এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মার্কিন স্বার্থে পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে। মার্কিন বিদেশ দপ্তরও ওই অঞ্চলে বিমান বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ ও অন্যান্য ব্যাঘাতের আশঙ্কা নিয়ে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করেছে।
ফিরে এল ১৯৭৬-এর স্মৃতি
আকাশে আচমকা রঙিন আলোর এমন ভিডিও 50 বছর আগে ঠিক এই সেপ্টেম্বরে তেহরানকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ১৯৭৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ইরানের কর্তৃপক্ষ আকাশে একটি উজ্জ্বল বস্তু দেখতে পাওয়ার কথা জানায়। খবর অনুযায়ী, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পাঠানো হয়েছিল ইরানি এফ-৪ যুদ্ধবিমান। পরবর্তীকালে ইউএফও গবেষকদের মধ্যে অন্যতম বহুচর্চিত ঘটনা হয়ে ওঠে সেটি। মার্কিন সরকারের ইএফও নিয়ে ডিক্লাসিফায়েড ফাইলসেও ১৯৭৬-এর ঘটনার উল্লেখ আছে। মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির আর্কাইভে রয়েছে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের একটি রিপোর্ট, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির একটি সংক্ষিপ্তসার এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা অ্যাটাশের একটি রিপোর্ট। এই নথিগুলি থেকে বোঝা যায়, ১৯৭৬-এর ঘটনাটি সরকারিভাবে নথিভুক্ত ও তদন্ত করা হয়েছিল। তবে সেবার যে বস্তুটি দেখা গিয়েছিল, তার সঙ্গে এই সপ্তাহে ক্যামেরায় ধরা এই রহস্যময় আলোর কোনও সম্পর্ক হয়তো নেই, আবার হয়তো আছে। আর সেই আলোচনাতেই মশগুল নেটদুনিয়া।
