গবেষণাগারে কর্মীর মৃত্যু, ২০০ জন কোয়ারেন্টিন! প্লেগ নিয়ে ট্রাম্পকে পাল্টা পরামর্শ ক্রেমলিনের
মস্কো: সাইবেরিয়ার ইরকুটস্ক অঞ্চলে প্লেগ-বিরোধী গবেষণাগারে এক কর্মীর নিউমোনিক প্লেগে মৃত্যুর খবর ঘিরে জল্পনা বাড়ছে। রাশিয়ার প্রশাসন মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়েছে, প্লেগ-প্রতিরোধে কোনও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মৃত্যুর কারণও এখনও নিশ্চিত নয় বলে দাবি তাদের। এই পরিস্থিতিতে মস্কোকে অবস্থান স্বচ্ছ করার বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
রাশিয়ার স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা রোসপোত্রেবনাদজোর টেলিগ্রামে জানায়, অনলাইনে ঘুরতে থাকা যে নথিতে বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, সেটি সরকারি সূত্র থেকে আসেনি এবং তার তথ্য অসত্য। এখন পর্যন্ত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানায় সংস্থা। তাদের বক্তব্য, ওই অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল।
গত শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘পিপল অফ বাইকাল’ জানায়, ২৮ বছরের দার্য়া শিপিলোভা নামে ওই মহিলা ভেঙে যাওয়া একটি টেস্ট টিউব থেকে নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। অন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যম গবেষণাগারে দুর্ঘটনার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সম্ভাব্য যোগের কথাও লেখে। ‘পিপল অফ বাইকাল’ আরও দাবি করে, তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের পরীক্ষায় রোগটি শনাক্ত হয়নি। ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ সোমবার জানান, রোসপোত্রেবনাদজোরের পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে, নিউমোনিয়াতেই মৃত্যু হয়েছে এবং কারণ “অনির্ণীত”। তাঁর কথায়, মহিলার জৈব নমুনায় তাঁর পেশাগত কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনও জীবাণু পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পর প্লেগ-বিরোধী প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্মী নতুন করে চিকিৎসা চাননি বলেও জানান তিনি।
প্লেগ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যার একাধিক রূপ আছে। নিউমোনিক প্লেগ সবচেয়ে সংক্রামক, শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এতে ফুসফুস বিকল হয়, সময়মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হতে পারে, জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিউবোনিক প্লেগ ছড়ায় সংক্রমিত মাছির মাধ্যমে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমায়ার জেনেভায় বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ইরকুটস্কের ঝুঁকি “মাঝারি থেকে কম”। গোটা রাশিয়ার জন্য ঝুঁকি কম, ইউরোপের বাকি অংশের জন্য খুবই কম।
আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে রাশিয়ার “স্বচ্ছ” হওয়া উচিত, ওয়াশিংটন বিষয়টি “খুব নিবিড় ভাবে” নজরে রাখছে। তাঁর মতে, রাশিয়ার দায়িত্ব বিশ্বকে আরও তথ্য জানানো। সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আমেরিকা বিষয়টি ‘খুব গুরুত্ব দিয়ে’ দেখছে এবং যতটা সম্ভব সাহায্য করবে।
পাল্টা প্রস্তাব মস্কোর
ট্রাম্পের সাহায্যের প্রস্তাবের পরোক্ষ জবাবে রোসপোত্রেবনাদজোর মঙ্গলবার জানায়, রাশিয়া আমেরিকাকেই সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সাহায্য করতে প্রস্তুত। তাদের দাবি, বিপজ্জনক সংক্রামক রোগ নিয়ে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। উদাহরণ হিসেবে তারা তিন মার্কিন রাজ্যে হামের পরিস্থিতির ‘উল্লেখযোগ্য অবনতি’ এবং জুনে নিউ মেক্সিকোয় প্লেগে একটি মৃত্যুর কথা তোলে। সংস্থার বক্তব্য, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রাশিয়ার বিপুল ব্যবহারিক ও বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতা আছে। মার্কিন পক্ষকে বিশেষজ্ঞ, গবেষণাগারের সরঞ্জাম এবং কার্যকর রোগনির্ণয় ও প্রতিরোধের উপকরণ দিতেও তারা তৈরি।
ইরকুটস্কে সম্মেলন
আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর ইরকুটস্কে প্লেগ ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন হওয়ার কথা। জুনেই এর আয়োজন চূড়ান্ত হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি, প্লেগ-বিরোধী প্রতিষ্ঠানের কর্মীর সাম্প্রতিক মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
