প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্মিত মচ্ছর
নয়াদিল্লি: ৯/১১-র কায়দায় বিমান হাইজ্যাক করে জঙ্গি হামলার যে ছক কষা হয়েছিল, ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের সাহসেই তা ব্যর্থ হয়েছে। হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, এখন তিনি বিপদসীমার বাইরে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। সুস্থ হওয়ার পথে থাকা স্মিতকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কথোপকথনের সময় আবেগ সামলাতে পারেননি স্মিত। তিনি জানান, এত বছর ক্যাপ্টেন হিসেবে বিমান চালালেও এমন ঘটনা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেননি। সেই মুহূর্তে নিজের কথা তাঁর মাথায় আসেনি, ভেবেছিলেন শুধু যাত্রীদের কথা। কান্নার জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন এবং এও জানান যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ফোন করবেন, এটা তাঁর ভাবনার অতীত ছিল।
মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, আবেগ প্রকাশের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত মানুষ আর কে হতে পারে। তাঁর কথায়, স্মিতের কাজে গোটা দেশ গর্বিত ও কৃতজ্ঞ, আর বিশ্বজুড়ে মানুষ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্মিত সব যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন, গোটা দেশ তাঁর দীর্ঘায়ু ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে এবং তাঁর অপেক্ষায় আছে।
ফক্স নিউজের খবর অনুযায়ী, হামলায় অভিযুক্ত দুবাইয়ের কো-পাইলটকে সৌদি আরব প্রশাসন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর হাতে তুলে দিয়েছে। এবার তাঁকে জেরা করবে UAE-র তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় ইরানের যোগের সম্ভাবনা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই যোগসূত্র এখনও প্রমাণিত নয়।
আরও পড়ুন: ক্যাপ্টেন স্মিথের প্রশংসায় মোদি, ট্রাম্প, নেতানিয়াহু
An unforgettable conversation with Captain Smit, filled with pride and emotions. pic.twitter.com/CCf46PKOWR
— Narendra Modi (@narendramodi) October 2, 2026
স্মিত ফোনে মোদিকে জানান, তিনি বিপদে পড়লেই হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বুধবার বিমানে সহকারী পাইলটের হাতে আক্রান্ত হওয়ার পর মনের জোর বাড়াতে সেই একই পথ অবলম্বন করেছিলেন তিনি। সে দিন বিমানে কী হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে তার বর্ণনাও দেন ভারতীয় পাইলট। মচ্ছর জানিয়েছেন, তিনি ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছেন। গত ১১ বছর ক্যাপ্টেন। তিনি জানান, একটা শেষ চেষ্টা করতে হত। কোনও রকমে ককপিটের দরজাটা খুলে দেন তিনি। ফলে সবাই ভিতরে ঢুকতে পারেন।
