ক্যাপ্টেন স্মিথের প্রশংসায় মোদি, ট্রাম্প, নেতানিয়াহু
নয়া দিল্লি: ‘ভয়াবহ বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও অসীম সাহস আর দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিথ মচ্ছর। তাঁর জন্যই শতাধিক মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি একটি বড় বিপর্যয়ও এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর জন্য ভারত গর্বিত।’
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 নম্বর বিমানের ভারতীয় পাইলট স্মিথ মচ্ছরকে এভাবেই প্রশংসায় ভরালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্মিথকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করলেন মোদি।
ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও। তিনি স্মিথের অসাধারণ সাহস এবং বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
ক্যাপ্টেন স্মিথের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হওয়ার পরও স্মিত প্রতিরোধ করেন। ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে যাত্রী ও ক্রুদের হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ করে দেন। ভয়ঙ্কর বিপদের মুহূর্তেও যেভাবে নিজের উপস্থিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েছেন স্মিথ, তা এককথায় অসাধারণ।
এদিকে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন। নেতানিয়াহুর কাছ থেকে তিনি ঘটনাটির বিস্তারিত বিবরণ শুনেছেন। ছুরিকাঘাতে পাইলট অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। ট্রাম্প এই কাজকে অসাধারণ সাহসিকতা হিসেবে বর্ণনা করে স্মিত মচ্ছরকে ‘হিরো’ আখ্যা দেন।
ভারতীয় পাইলট স্মিথ মচ্ছরের প্রশংসা এখন বিশ্বজুড়ে। ক্রু সদস্য, যাত্রীসহ ১৭০ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি রুখে দিয়েছেন ঘটতে চলা এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। ককপিটেই রক্তে ভেসে গিয়েছিল দেহ। সহ–পাইলট একের পর এক ছুরির কোপ বসিয়েছিলেন শরীরে। সেই অবস্থাতেই ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে ‘হিরো’র আখ্যা পাচ্ছেন ভারতীয় বিমানচালক স্মিত মচ্ছর। জানা গেছে, স্মিথের নেওয়া মাত্র দুটো সিদ্ধান্তই বাঁচিয়ে দিয়েছিল দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 নম্বর বিমানটিকে।
ককপিটে তখন হুলস্থুল কাণ্ড। সহ পাইলট তখন স্মিথের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের কব্জায় নেওয়ায় মরিয়া চেষ্টা করে চলেছেন। তখনই কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দু’ধরনের কোড পাঠিয়ে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন স্মিথ। প্রথমে পাঠান ৭৭০০ এবং তারপর ৭৫০০ স্কোয়াক কোড। এই কোডদুটি আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য ব্যবহার করেন পাইলটরা। বিমান অপহরণ বা অবৈধ ভাবে বিমান দখল করে নেওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটলে এই বার্তাগুলি পাঠানো হয়। সেই জন্যই ৭৫০০ সংকেত পাওয়ার পরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ইজরায়েলি বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান স্মিথের বিমানটির দিকে রওনা হয়েছিল। তারপরই জানা যায় কী ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেছে মাঝ আকাশে! আর স্মিথের দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি হল ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে ‘হেল্প’, ‘হেল্প’ বলে চিৎকার করা। যার ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা গিয়ে হামলাকারীকে পরাস্ত করতে পারেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে ভর্তি। আছেন আইসিইউ–তে। মাথা ও হাতে ছিল গুরুতর আঘাত। ছুরির আঘাতে কেটে ফালা ফালা হয়ে গিয়েছিল হাত, ফিনকি দিয়ে বেরোচ্ছিল রক্ত। তবু মনোবল হারাননি ক্যাপ্টেন স্মিত।
পাইলটের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস। প্রয়োজনীয় সাহায্যেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সহ–পাইলটকে হেফাজতে নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কেন এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা তিনি ঘটালেন, সে সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। শুরু হয়েছে তদন্ত।
