তালিবানের হাতে বন্দি কেরলের ভ্লগার অরুণিমা, চাইলেন সাহায্য
কাবুল: একা একা বিশ্ব ঘুরে বেড়ানোই তাঁর নেশা। সেই নেশাতেই আফগানিস্তান সফরে গিয়ে মহাবিপদে পড়লেন কেরলের জনপ্রিয় মহিলা ভ্লগার অরুণিমা। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি দাবি করেন, আফগানিস্তানের বামিয়ান শহরে তাঁকে আটক করেছে মুজাহিদিনরা। আতঙ্কে ভারতীয় দূতাবাসের সাহায্য চেয়ে পোস্ট করেন তিনি। যদিও ঘণ্টা তিনেক পরেই সামনে আসে স্বস্তির খবর— আলোচনার মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।
‘ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা’ নামে পরিচিত এই তরুণী নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সম্প্রতি ভারত থেকে আফগানিস্তান সফরে যান তিনি। সোমবার তিনি জানান, বামিয়ানে তালিবান-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন তাঁকে আটক করেছে, কারণ তাঁর কাছে যথাযথ অনুমতিপত্র ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া একটি নথির অনুবাদও তুলে ধরেন, যেখানে লেখা ছিল— যথাযথ সরকারি অনুমতি না থাকায় তাঁকে আটক করা হয়েছে।
পরে নিজের অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে জানান অরুণিমা। তাঁর কথায়, আফগানিস্তানের আইন অনুযায়ী কোনও মহিলা একা ভ্রমণ করতে পারেন না, পুরুষ সঙ্গী বা গাইড ছাড়া চলাফেরাও নিষিদ্ধ। সেই নিয়ম ভাঙার কারণেই বামিয়ানে তাঁকে আটকানো হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। এর আগে জালালাবাদেও একা ভ্রমণ করার জন্য তাঁকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
অরুণিমা জানিয়েছেন, আটকের খবর পেয়ে প্রথমে তিনি তাঁর সঙ্গীকে বিষয়টি জানান, এর পর গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান। এর আগে আফগানিস্তানে সফরের সময় সাহায্য করেছিলেন, এমন এক স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁর মধ্যস্থতা এবং নিজের অনুনয়ের পরই শেষ পর্যন্ত জরিমানা মকুব করে তাঁকে উজবেক সীমান্তের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ।
গোটা ঘটনায় তিনি কতটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, তা নিজের পোস্টে তুলে ধরেছেন অরুণিমা। মহিলা হওয়ার কারণেই তাঁকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আফগানিস্তান সফরে গিয়ে গোটা যাত্রাপথে বোরখা পরে থেকেছেন অরুণিমা, যাতে স্থানীয়দের সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারেন। সফরের সময় তিনি বারবার তুলে ধরেছেন তালিবান-শাসনে আফগান মহিলাদের দৈনন্দিন দুর্দশা, ভয় আর কড়া বিধিনিষেধের কথা। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের একাধিক ছবি-ভিডিওও পোস্ট করেছেন তিনি। এই ঘটনার ঠিক পরই সামনে আসে তাঁর আটকের খবর।
তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে গোটা ঘটনাটি ঘটেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে এখনও সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও এই নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
