বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

মহাকাশে এবার মারণাস্ত্র! অন্তরীক্ষেই হবে মহাযুদ্ধ, প্রথমবার স্বীকার আমেরিকার

15 September, 2026 3:01 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

নিউ ইয়র্ক: হলিউডের ‘স্টার ওয়ারস’ ছবির কল্পকাহিনি যেন এবার বাস্তবের মাটিতে পা রাখল। পৃথিবীর কক্ষপথকেও যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলেছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি— এই সত্যিটাই এতদিন ঘুরপথে আলোচনায় থাকলেও, এই প্রথম প্রকাশ্যে তা স্বীকার করে নিল খোদ আমেরিকা।

সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ মূল বক্তৃতা দিতে গিয়ে মার্কিন বায়ুসেনার সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়ে দেন, পৃথিবীর কক্ষপথে ইতিমধ্যেই মোতায়েন রয়েছে আমেরিকার ‘স্পেস কন্ট্রোল’ যুদ্ধাস্ত্র, যা মিত্রবাহিনীকে শত্রুপক্ষের আগ্রাসী পদক্ষেপ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মহাকাশে পাঠানো হয়েছে, তা গতিশীল (কাইনেটিক) না অ-গতিশীল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি। পরবর্তী এক আলোচনাসভায় প্রশ্ন এড়িয়ে তিনি শুধু বলেন, এই বক্তব্য যথেষ্ট ভেবেচিন্তেই তৈরি করা হয়েছিল।

এটিই কোনও মার্কিন প্রশাসনিক কর্তার তরফে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের প্রথম প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি। এর আগে বহুবার এই অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে, কিন্তু হোয়াইট হাউস কখনও তা স্বীকার করেনি। মহাকাশে প্রতিযোগিতা এড়াতে এতদিন এই বিষয়ে মুখ বন্ধ রেখেছিল ওয়াশিংটন।

সরকারিভাবে বিস্তারিত না জানানো হলেও, বিশেষজ্ঞদের অনুমান— এই ব্যবস্থার মধ্যে থাকতে পারে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, লেজার-ভিত্তিক জ্যামিং এবং সাইবার হস্তক্ষেপের মতো অ-গতিশীল পদ্ধতি, যেগুলি মহাকাশে বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ তৈরি না করেই শত্রু-উপগ্রহের যোগাযোগ ব্যবস্থা অকেজো করতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম গতিশীল অস্ত্রও মজুত থাকতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তবে সামরিক নেতৃত্ব বরাবরই দীর্ঘস্থায়ী কক্ষপথ-ধ্বংসাবশেষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে এসেছেন, ফলে বর্তমানে মোতায়েন থাকা ব্যবস্থাগুলি মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও বৈদ্যুতিন হস্তক্ষেপের দিকেই ঝুঁকে থাকতে পারে বলে ধারণা।

চিন-রাশিয়াকে টক্কর, আর ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনা

মহাকাশ-প্রতিরক্ষা খাতে আমেরিকা মূলত দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে সামনে রেখে এগোচ্ছে— চিন ও রাশিয়া। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চিন যেভাবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং রাশিয়া যেভাবে মহাকাশে আক্রমণ-প্রতিরক্ষার মহড়া চালাচ্ছে, তার পাল্টা হিসেবেই এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছিল আমেরিকার জন্য।

এই ঘোষণার পাশাপাশি মেইঙ্ক জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহাকাশ-ভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর কর্মসূচি চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছরের মধ্যেই ‘ফ্লাইট-রেডি’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। চলতি মাসেই শত্রু-লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণে সক্ষম নতুন উপগ্রহ-নেটওয়ার্কেরও প্রথম উৎক্ষেপণ হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী মহাকাশে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ হলেও, সাধারণ প্রচলিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। ঠিক এই আইনি ফাঁক গলেই এগিয়েছে আমেরিকার এই পদক্ষেপ।

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতার শুরুটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্পুটনিক উৎক্ষেপণের পর থেকেই আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের উপগ্রহ সুরক্ষিত রাখতে একে অপরের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল। পরবর্তীকালে রাশিয়া, চিন ও ভারতের মতো দেশও এমন প্রযুক্তি গড়ে তুলেছে, যা প্রয়োজনে শত্রু-উপগ্রহ ধ্বংস করতে সক্ষম। ২০১৯ সালে নিজস্ব স্পেস ফোর্স তৈরি করেছিলেন ট্রাম্প নিজেই— যার হাত ধরেই আজ এই স্বীকারোক্তি এল প্রকাশ্যে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC