বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

জন্মেই পূর্ণবয়স্কা: শিশু নয়, যজ্ঞের আগুন থেকে যুবতী হয়ে উঠে এসেছিলেন দ্রৌপদী

21 September, 2026 8:09 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

দ্রৌপদীর জন্মের সময় বয়স কত ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে সবচেয়ে বিস্ময়ের কথা হল, তিনি শিশু হয়েই জন্মাননি। মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী, রাজা দ্রুপদের যজ্ঞের আগুন থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন পূর্ণ যৌবনবতী নারী হয়ে। তাঁর কোনও শৈশব ছিল না, মায়ের গর্ভে জন্মও হয়নি। সাধারণ মানুষের জন্মের সঙ্গে এই জন্মের কোনও মিল নেই।

সাধারণ জন্ম নয়, অগ্নিকুণ্ড থেকে আবির্ভাব

দ্রোণ ও  দ্রুপদের পুরনো শত্রুতা থেকেই এই কাহিনির সূচনা। দ্রোণকে বধ করতে পারবে, এমন এক তেজস্বী পুত্র পেতে যজ্ঞের আয়োজন করেন দ্রুপদ। যজ্ঞ শেষে ঋষি যাজ ও উপযাজ প্রসাদ নিয়ে গেলে রানি সেটি নিতে অপেক্ষা করতে বলেন। ক্রুদ্ধ ঋষিরা প্রসাদ আগুনে ছুড়ে দেন।

প্রথমে সেই আগুন থেকে বেরিয়ে আসেন এক তরুণ যোদ্ধা, ধৃষ্টদ্যুম্ন। এরপর বেদি থেকে উঠে আসেন এক সুন্দরী নারী। তিনিই দ্রৌপদী, যাঁকে যাজ্ঞসেনী নামেও ডাকা হয়। তিনি জন্মেই ছিলেন বয়সে পরিণত। তাঁর জন্মের মুহূর্তে আকাশবাণী হয়, এই নারীর জন্ম পৃথিবীতে অশুভ শক্তির বিনাশের কারণ হওয়ার জন্যই।

বয়স কত ছিল?

মহাভারতে দ্রৌপদীর জন্মের সময়কার নির্দিষ্ট বয়সের কথা বলা নেই। শুধু জানা যায়, তিনি ছিলেন তরুণী, বিবাহযোগ্যা। শৈশব-কৈশোরের ধাপ পেরোনোর প্রয়োজনই তাঁর হয়নি। এই কারণে তাঁর বয়স নিয়ে সুনির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়। এটি পৌরাণিক কাহিনী, তাই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও নেই।

কোনও অভিশাপ কি ছিল তাঁর জীবনে?

দ্রৌপদীর জীবন ঘিরে যে বিধিলিপির কথা সবচেয়ে বেশি বলা হয়, তা আসলে পূর্বজন্মের এক বরের গল্প, যাকে অনেকে অভিশাপের মতোই দেখেন। মহাভারতের আদিপর্বে বলা হয়েছে, পূর্বজন্মে এক ঋষিকন্যা মহাদেবের কাছে স্বামী চেয়ে প্রার্থনা করেছিলেন। পাঁচবার একই কথা বলে ফেলায় শিব তাঁকে পাঁচ স্বামীর বর দেন। সেই বরই পরজন্মে তাঁকে পঞ্চপাণ্ডবের পত্নী করে তোলে।

এর সঙ্গে জুড়ে আছে জন্মের সময়ের ভবিষ্যদ্বাণীও: তাঁর জন্ম হয়েছে ক্ষত্রিয়কুলের বিনাশের কারণ হতে। শেষ পর্যন্ত কৌরবসভায় তাঁর অপমান থেকেই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পথ প্রশস্ত হয়।

কাহিনির তাৎপর্য

দ্রৌপদীর এই অসাধারণ জন্মই তাঁকে মহাভারতের অন্য সব চরিত্র থেকে আলাদা করে দিয়েছে। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে জন্মানো, বিশেষ ভবিষ্যদ্বাণী আর বিধিলিপির বোঝা কাঁধে নিয়ে বাঁচা, এই দুইয়ের মধ্যে দিয়েই তাঁর চরিত্রের শক্তি ও যন্ত্রণা দুটোই ফুটিয়ে তুলেছেন মহাভারতের রচয়িতা বেদব্যাস।

প্রতিবেদন

UTSAB RC