কেন করা হয় কুমারী পুজো? কী বলছে পুরাণ?
জ্যোতিষাচার্য উৎপলকুমার দাস
দেবীপুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট হল কুমারী পুজো। এটি একটি ধর্মীয় আচার। কোনও কুমারী কন্যাকে পুজো করী হয়। মনে করা হয় দেবীর ঐশ্বরিক শক্তি তার মধ্যে সঞ্চারিত হয়ে রয়েছে। দেবী পুরাণে এই পুজোর সুষ্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে—‘পূজয়েৎ ব্রাহ্মণাঞ্চক্র কন্যাং বালাং তথৈব চ’। দেবী দুর্গার পুজোর অঙ্গ হিসেবেই এই পুজো করা হয়ে থাকে। এই পুজোর মাহাত্ম্য কীর্তন করেছে তন্ত্র পঞ্চমুখ। যেখানে বলা হয়েছে, কুমারী পুজো ছাড়া হোম প্রভৃতি কর্ম পরিপূর্ণ ফল প্রদান করে না। কুমারীকে ভোজন করালে ত্রিলোকবাসীকে ভোজন করানোর সমান ফললাভ করা হয়। দুর্গাপুজোর সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিথির তিনদিন বা কোনও একদিন ১৬ বছরের কম বয়সি কোনও কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পুজো করার রীতি আছে। বিভিন্ন বয়সের কন্যাকে বিভিন্ন নামে পুজো করা হয়। ১ বছরের কন্যাকে সন্ধ্যা, ২ বছরের সরস্বতী, ৩ বছরের ত্রিধামূর্তি, ৪ বছরে কালিকা, ৫ বছরের সুভাগা, ৬ বছরে উমা, ৭ বছরের মালিনী, আট বছরে কুঞ্জিকা, ৯ বছরে কালসন্দর্ভা, ১০ বছরে অপরাজিতা, ১১ বছরের রুদ্রানী, ১২ বছরে ভৈরবী, ১৩ বছরে মহালক্ষ্মী, ১৪ বছরের পীঠনায়িকা, পনেরো বছরের ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছরের কুমারীকে অম্বিকা নামে পুজো করা হয়। দেবীর কুমারী রূপ ও এই নাম পুরাণের যুগ থেকে প্রচলিত। তৈত্তিরীয় আরণ্যকে দেবীকে কুমারী নামে অভিহিত করা হয়েছে। শ্বেতাশ্বত্তর উপনিষদের সেই পরমাত্মাকে স্ত্রী, পুরুষ, কুমার বা কুমারী বলা হয়েছে। বৃহদ্ধর্ম পুরাণে আছে দেবী অম্বিকা কুমারী কন্যা রূপে ব্রহ্মাদি দেবতাদের সামনে আবির্ভূতা হয়ে দেবীর বোধন করতে নির্দেশ দেন। এক কথায় এই পুজোর সহজ সরল ব্যাখ্যা হল, সকল নারীকে ভগবতীর দৃষ্টিতে দেখা। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে যেহেতু ভগবতীসত্তার প্রকাশ বেশি, তাই এই কুমারী পুজোয় সকল জাতির কল্যাণ হয় বলে মনে করা হয়।
