ছ’মাসের মধ্যে ফের মুখোমুখি জিনপিং-ট্রাম্প, তিন দিনের মার্কিন সফরে সস্ত্রীক ওয়াশিংটনে চিনা প্রেসিডেন্ট
ওয়াশিংটন: পূর্বপরিকল্পনা মাফিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে সস্ত্রীক আমেরিকায় পৌঁছলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার স্থানীয় সময়ে ওয়াশিংটনের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার সঙ্গে এসে চিনা প্রেসিডেন্ট জিনপিং এবং ফার্স্ট লেডি পেং লিইয়ুয়ানকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। এই স্বাগত-পর্বকে যথেষ্ট ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বুধবার ওয়াশিংটনে পা রেখেই জিনপিং বলেন, চিন ও আমেরিকা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং বন্ধু দেশ হওয়া উচিত। দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে উভয় দেশই সঠিক পথ খুঁজে পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী তিনি। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জিনপিংয়ের লিখিত বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাঁর মতে চিন ও আমেরিকা দুটি মহান দেশ, আর এই দুই দেশের মানুষও অসাধারণ।
চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প যখন চিন সফরে গিয়েছিলেন, তখনই চিন-মার্কিন সম্পর্কে কৌশলগত স্থিতিশীলতা তৈরির বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন জিনপিং। সেই সফরের প্রসঙ্গ তুলে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে তা সহায়ক হয়েছে। জিনপিংয়ের মতে, চিন ও আমেরিকা একই লক্ষ্যে কাজ করবে, দুই দেশের মূল ভিত্তি হবে এক। তার পাশাপাশি কিছুটা প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রিত মতপার্থক্য এবং শান্তির প্রতিশ্রুতিও রাখবে দুই দেশ। কূটনৈতিক মহলের আশা, আমেরিকায় তাঁদের আলোচনায় উঠে আসবে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিরল খনিজ পদার্থ এবং বৃহত্তর চিন-মার্কিন সম্পর্কের প্রসঙ্গও।প্রসঙ্গত, গত অক্টোবরে বুসান বৈঠকে স্বাক্ষরিত মার্কিন-চিন শুল্ক চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের নভেম্বরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ভবিষ্যৎ এবং চিপ রফতানি করার লাইসেন্স নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সম্প্রতি বিরল খনিজ সরবরাহের ওপর রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া যে প্রস্তাব, তা ইতিমধ্যেই নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের কর্তাদের মতে, তুলনামূলক ‘অ-কৌশলগত’ বা কম গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দুই দেশের অর্থনীতির জন্যই লাভজনক হতে পারে।
আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে যাত্রীবাহী বাসে আগুন, পুড়ে মৃত ৯
এই সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনাও একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এআই নিয়ে উভয় দেশ এখনও চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি—যেমন দুই দেশের মধ্যে নতুন এআই মডেল সম্পর্কে আগাম কোনও ভাবনা বা চিনের ওপেন সোর্স সিস্টেমগুলির ওপর তদারকি বৃদ্ধি। তবে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকের আগে এ বিষয়ে কোনও সুস্পষ্ট পারস্পরিক বোঝাপড়ার অবস্থান প্রকাশ করতে চাননি মার্কিন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। জানা যাচ্ছে, অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়ের মধ্যে মেক্সিকোর মাদক সিন্ডিকেটগুলির কাছে ফেন্টানিল তৈরির রাসায়নিক উপাদান সরবরাহ বন্ধ করতে বেজিংয়ের ওপর চাপ বজায় রাখবে ওয়াশিংটন। এছাড়া অতীতের আলোচনার নিরিখে ধারণা করা হচ্ছে, চিনের কারাগারে বন্দি মার্কিন নাগরিকদের বিষয়টিও ট্রাম্প আবার তুলতে পারেন।
উল্লেখ্য, এবারের সফর হচ্ছে গত মে মাসে ট্রাম্পের বেজিং সফরের পরবর্তী পর্যায়। সেবার গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছিলেন জিনপিং, আর দুই রাষ্ট্রনেতা একমত হয়েছিলেন ‘গঠনমূলক, কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’ বজায় রাখার বিষয়ে। এবারের সফরে ট্রাম্পও জিনপিংকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আতিথেয়তা দেবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।
