পাকিস্তানে ফের ভয়াবহ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণ, মৃত ১১, জখম ৩০
ডেরা ইসমাইল খান, (পাকিস্তান): পাকিস্তানে থামছে না জঙ্গি হামলা ও রক্তপাত। শনিবার ফের একবার রক্তক্ষয়ী হামলায় কেঁপে উঠল উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান। সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় কোহাত পুলিশ স্টেশন এলাকার একটি মসজিদের কাছে ভয়াবহ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপয়েন্টের কাছে একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ির আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ১১ জনের মধ্যে অন্তত ৭ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে জঙ্গি হামলাকারী সরাসরি সীমান্তরক্ষী ও পুলিশের যৌথ চেকপয়েন্টে সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তে তা বিকট শব্দে ফেটে পড়ে পুরো এলাকা ছাই ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভয়ঙ্কর এই হামলায় জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান নিজেদের দায় স্বীকার করেছে। সীমান্তবর্তী এই খাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলে গত কয়েক মাস ধরেই সরকারি বাহিনী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। ডুরান্ড লাইন নামে পরিচিত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত নিয়ে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, আফগান মাটি ব্যবহার করে টিটিপি জঙ্গিরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একের পর এক নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই টানাপোড়েনের জেরে সম্প্রতি আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলের বিরুদ্ধে কড়া সামরিক অবস্থান নেয় পাকিস্তান।
গত রবিবার রাতে আফগানিস্তানের কুনার ও পাক্তিকা প্রদেশে এবং তার ঠিক তিনদিনের মাথায় আফগান ভূখণ্ডে তালিবানের ড্রোন মজুত রাখা সন্দেহভাজন শিবিরগুলোতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তান সেনা। এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে কাবুলের দাবি। কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে সংঘাতে সীমান্ত পরিস্থিতি ও আকাশপথে হামলার কয়েকদিনের মাথায় ডেরা ইসমাইল খানে টিটিপির এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে পাক সেনা ও আফগান বাহিনীর সামরিক রেষারেষি এবং পাকিস্তানি তালিবানের এই ক্রমাগত আত্মঘাতী হামলা গোটা মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত নিরাপত্তাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
