নয়াদিল্লিতে জিনপিং, গলছে ভারত- চিন সম্পর্ক
নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর : ২০২০ সালের হিমালয়ের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকে ভারত ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে বরফ জমেছিল, তা ধীরে ধীরে গলতে শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে নতুন দিল্লিতে শুরু হওয়া ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিগত সাত বছরের মধ্যে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর।
ভারত শুরু থেকেই নিজেদের অবস্থানে অনড় যে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LAC) স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারে না। এর আগে কাজান ও বিшкеকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে আলোচনার পর সীমান্ত সমস্যা সমাধানের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে পুনরায় স্পষ্ট করে দেবেন যে সীমান্তে শান্তিই দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।
সম্পর্ক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। গত অর্থবর্ষে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫১.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১১২.১৬ বিলিয়ন ডলারে। দিল্লি চায়, ভারতীয় পণ্যের জন্য চীনা বাজার আরও উন্মুক্ত করা হোক এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে নির্ভরযোগ্য করা হোক।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের তরফেই বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেছে:
সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু: দীর্ঘ ছয় বছর বন্ধ থাকার পর ঐতিহাসিক রেশম পথ (Silk Road) সংলগ্ন নাথুলা পাস এবং লিপুলেখ পাসের মাধ্যমে ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি: দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়েছে।
ভিসা প্রক্রিয়ায় ছাড়: চীনা ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের জন্য ভারত ভিসা পাওয়ার নিয়ম অনেকটাই শিথিল করেছে।
গালওয়ানের তিক্ততা কাটিয়ে দুই দেশই এখন সতর্কভাবে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পথ চলা শুরু করছে। তবে অর্থনৈতিক এই সমীকরণ দীর্ঘমেয়াদে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপরই।
