অভিষেকের ‘ছায়াসঙ্গী’ সুমিত রায়ের ৮ দিনের পুলিশি হেফাজত
সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আট দিনের পুলিশি হেফাজত। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল সিআইডি। আবেদনে সাড়া দেন মেদিনীপুর জেলা আদালতের বিচারক।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সিআইডির গাড়িতে করে সুমিত রায়কে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে তাকে রাখা হয় কোর্ট লকআপে। দুপুরে তাঁকে হাজির করানো হয় মেদিনীপুর জেলা আদালতে। সুমিতকে নিয়ে সিআইডির দল আদালত চত্বরে পৌঁছোনোর আগেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( হেডকোয়ার্টার) উত্তম ঘোষের নেতৃত্বে গোটা এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন পুলিশ আধিকারিকেরা।
একদিন আগেই সুমিতের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল শীর্ষ আদালত। অভিযোগ ছিল, জিজ্ঞাসাবাদের সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন সুমিত। সেই কারণেই তাঁর রক্ষাকবচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট। খারিজ হয়ে গিয়েছিল তাঁর আগাম জামিনের আবেদনও। আদালতের নির্দেশ হাতে পাওয়ার পর একটুও সময় নষ্ট না করে শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিতকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। তবে তাঁকে গ্রেপ্তারের আগে অভিষেকের বাড়ির সামনে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশের বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। শেষপর্যন্ত সিআইডি আধিকারিকেরা অভিষেকের বাড়িতে ঢোকেন। এরপরই সুমিতকে গ্রেপ্তার করে ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।
শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। সিআইডি ইতিমধ্যে যে ১৪ পাতার চার্জশিট দিয়েছে, তাতে সুজয়সহ চার জনের নাম রয়েছে। কিন্তু সেখানে নাম নেই সুমিত রায়ের। জানা গেছে, অতিরিক্ত চার্জশিটে তাঁর নাম যোগ করা হতে পারে। আদালতকে সিআইডি জানিয়েছে, সুমিতকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। তারা এই মামলায় অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেবে।
