গত আগষ্টে রেকর্ড ভেঙেছে তাপ!
সংবাদদাতা: মাত্রা ছাড়াচ্ছে গরম। দিন দিন বাড়ছে পৃথিবীর তাপের মাত্রা। ইউরোপ, আমেরিকার মত জায়গাগুলিতে দেখা দিচ্ছে দাবানল। গলে যাচ্ছে হিমবাহ। পাহাড়ের চূড়ার বরফ গলে গিয়ে বেরিয়ে পড়ছে পাথর। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উষ্ণতার জেরে জলভাগের পরিবেশেও আমূল পালটে গিয়েছে। তার জেরেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখছে বিশ্ব। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ভয় ধরানো আর এক রিপোর্ট। ইউরোপিয় ইউনিয়নের অন্তর্গত কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র গত আগস্টেই বিশ্বের তাপমাত্রার গড় বৃদ্ধি হয়েছে ১.৫৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। যেখানে ১৯৯১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৮৫ ডিগ্রি বেশি। সমীক্ষা রিপোর্টে দেখা গেছে, মেরু অঞ্চলের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় সমুদ্রের তাপমাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে ২১.০৭ ডিগ্রি। যা সর্বকালীন রেকর্ড।
এদিকে বছর দুয়েক ধরেই গরম কী জিনিস হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ইউরোপবাসীরা। ইতিহাস বলছে ২০২৪এর মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি গরমে পুড়ছিল ইউরোপের দেশগুলি। জুন থেকে আগস্ট–তিনমাস ছিল পশ্চিম ইউরোপের উষ্ণতম সময়। চলতি বছর দেখা গেছে, সেই উষ্ণতা গিয়ে ঠেকেছে ২১.৬৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে। যা গড় তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় আড়াই ডিগ্রি বেশি।
আবহবিদদের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এবারই ছিল উষ্ণতম আগস্ট মাস। এই সময় বিশ্বের গড় উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপের বহু দেশ তো বটেই, এমনকী ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়াতেও খরা দেখা দিয়েছে। উল্টোদিকে কোথাও কোথাও আবার অতিরিক্ত বৃষ্টি, হড়পা বান, ঝড়ঝঞ্ঝায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতি। আবহাওয়ার এই পরস্পরবিরোধী প্রভাব গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত নির্গমনের ফল। বিজ্ঞানীদের মতে, একমাত্র মানুষের সচেতনতাই পারে আসন্ন ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে।
