ভুয়ো এআই রিপোর্টে শুরু হয়ে যেত যুদ্ধ, আমেরিকা-চিনের সংঘাত
ওয়াশিংটন: AI-এর সাহায্যে তৈরি একটি ‘ভুল’ গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে আমেরিকা-চিনের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাচ্ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে একটি চিনা জাহাজে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল মার্কিন সেনা। শেষ মুহূর্তে ভুল বুঝতে পারায়, মার্কিন সেনারা থামেন। একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের তথ্যের ফলে বিশ্বজুড়ে কী সংকট তৈরি হত, তা ভেবে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে চিনের একটি জাহাজে পরমাণু অস্ত্র-সংক্রান্ত উপাদান রয়েছে। সেই কারণে জাহাজটিকে আটকানোর প্রস্তুতি শুরু করে মার্কিন বাহিনী। তবে শেষ পর্যন্ত অভিযান বাতিল হয়। কর্তারা বুঝতে পারেন, এক বিশ্লেষকের ব্যবহার করা এআই চ্যাটবট জাহাজের মালপত্র ভুলভাবে শনাক্ত করেছিল। সিএনএন-এর এক সূত্রের দাবি, রিপোর্টটি ছিল “সম্পূর্ণ ভুল”, কিন্তু সেটির জেরে “প্রায় যুদ্ধ বেধে যাচ্ছিল।” জাহাজটিতে আসলে কী ছিল এবং সেটি কোথায় যাচ্ছিল, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ড এই ঘটনা নিয়ে যদিও কোনও মন্তব্য করেনি।
এআই নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সম্প্রতি চলতি মাসেই এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রকাশ্যে ইস্তফা দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, এআই প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে বিতর্ক ছড়ায়। সংস্থার আরও এক কর্মী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “আমরা আন্তরিকভাবেই বিশ্বাস করি এআই সব মানুষকে মেরে ফেলতে পারে”। এবং আগামী এক দশকে তার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে তিনি মনে করেন। এত সতর্কবার্তা সত্ত্বেও এআই উন্নয়নে কড়া লাগাম টানার বিরোধিতা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর কয়েক জন ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
আরও পড়ুন: মাকে নিয়ে গুগলের অফিস, এমপ্লয়ির পোস্ট মন কাড়ল নেটিজেনদের
আমেরিকা ও চিনকে জড়িয়ে আরও একটি আলাদা ঘটনার খবর দিয়েছে পলিটিকো। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বেশ কিছু যন্ত্রাংশ, যার মধ্যে ককপিটের স্পর্শকাতর স্টিলথ ক্যানোপিও রয়েছে, হংকংয়ে সরে গিয়ে এখন নিখোঁজ। ফলে বেজিং সংবেদনশীল মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি হাতে পেয়েছে কি না, সেই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মেরামতের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে আমেরিকায় পাঠানো হচ্ছিল যন্ত্রাংশগুলি। কেন সেগুলি অন্য পথে ঘুরে গেল বা এখন কোথায় আছে, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে পলিটিকো। এফ-৩৫ সরবরাহ শৃঙ্খল পরিচালনাকারী সংস্থা লকহিড মার্টিনের এক মুখপাত্র “নিরাপত্তাজনিত কারণে” নির্দিষ্ট চালান নিয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, সংস্থা প্রতিরক্ষা দফতর নির্ধারিত ও ডিফেন্স লজিস্টিক্স এজেন্সি নিয়ন্ত্রিত সব মার্কিন বিধি মেনে চলে, এবং এফ-৩৫ কর্মসূচির অখণ্ডতা ও মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিটি চালান সর্বোচ্চ সতর্কতায় সামলানো হয়।
