বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ফের তিন ঘণ্টার বৈঠকে আমেরিকা-ইরান, চুক্তি নিয়ে ফের সরব ট্রাম্প, হরমুজ নিয়ে হুঁশিয়ারি তেহরানের

23 September, 2026 3:06 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

জেনেভা: দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেই ফের আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসল ইরান। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ফাঁকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক দফা আলোচনা করেছেন তারা। জানিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বৈঠককে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ-সংঘাতে জড়িয়ে ইরান ও আমেরিকা। এর জেরে বার বার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া, আর কবে এই যুদ্ধের অবসান ঘটবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে হরমুজ় প্রণালী-সহ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথে, যেখান দিয়ে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি-সহ পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে—সংঘাতের জেরে ব্যাহত হয়েছে সেই পরিষেবাও। কূটনৈতিক মহলের মতে, এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকা-ইরান এই বৈঠক নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়েছে। তবে সেই বৈঠকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে। তাঁর হয়ে আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। বৈঠককে ইতিবাচক আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ফের ইরানের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “একটি চুক্তি করা ইরানের জন্যই সুবিধাজনক।” সংঘাতের অবসান ঘটাতে অতীতেও শান্তিচুক্তি নিয়ে একাধিকবার আলোচনায় বসেছে ইরান ও আমেরিকা, কিন্তু কোনও বৈঠকই ফলপ্রসূ হয়নি এবং শান্তিচুক্তি এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্য, “আমি ভাবতেই পারি না কেন তারা (ইরান) চুক্তি করতে চাইবে না।” একই সঙ্গে ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি—চুক্তি করতে রাজি না হলে ইরান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরানের শর্ত ও পাল্টা দাবি

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ফাঁকে এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য নিজেদের শর্তগুলি ফের তুলে ধরেছে ইরান। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় যোগ দিতে বর্তমানে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। উইটকফের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন আরাঘচি নিজেই। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট দাবি জানান—অবিলম্বে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে আমেরিকাকে, ফিরিয়ে দিতে হবে ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ, এবং বন্ধ করতে হবে সব ধরনের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।

এই বৈঠক প্রসঙ্গে উইটকফ বলেন, “আলোচনা ভালো হয়েছে।” একই সুরে ট্রাম্পও বলেন, “আমরা দেখব এর (বৈঠক) ফলাফল কী হয়! তবে অবশ্যই চুক্তি করা ওদের জন্যই সুবিধাজনক।”

সাধারণ সভায় ট্রাম্পের ভাষণেও চুক্তির প্রসঙ্গ

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় নিজের ভাষণেও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি জানান, তেহরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—হয় চুক্তি করা, নয়তো নতুন করে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযানের মুখোমুখি হওয়া। তাঁর বক্তব্য, “এবার আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানের সঙ্গে কি এমন কোনও চুক্তি হবে, যা দেশটির পুনর্গঠন এবং অতীতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে?” এরপরই হুমকির সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, চুক্তি না হলে ইরানকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।

পারমাণবিক কর্মসূচিই মূল কাঁটা

শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন ট্রাম্প। তিনি চান, ইরানের সঙ্গে হতে চলা যে কোনও চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি, এবং যে কোনও মূল্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে চান তিনি। যদিও ইরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এতদিন পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ় প্রণালী নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারায় সব আলোচনাই ভেস্তে গিয়েছে। এবার নিউ ইয়র্কের এই তিন ঘণ্টার আলোচনা কোনও সমাধানের দিশা দেখায় কি না, সেদিকেই কৌতূহলী দৃষ্টি গোটা বিশ্বের।

প্রতিবেদন

UTSAB RC