কবিতা আর সুরের ‘খোয়াব’
লোপামুদ্রা ভৌমিক
কারও কারও গানের ঘর থাকে অথবা ঘরের গান। তবে গান হোক বা ঘর, সেখানে জানলা তো থাকবেই। আলো পড়বে তেরচা হলুদ। আর ঘড়ির কাঁটা ঘুরবে কনেদেখা আলোর গতিতে। বাইরে থেকে খুব গোছালো… ভেতর থেকে অগোছালো। কেমন যেন মোমরঙের ওপর কেউ রেখে গেছে জলের ছলাৎ ছলাৎ। বাদাড়ের জোনাকি এখানে সেখানে। বইগুলো বৃষ্টির উপকথা। আলোটা নেশার। দেয়ালের ছবিগুলো মাতাল। আছে ঘরের দিগন্ত। একের সঙ্গে পার হয় দুই। এসব কিছুই হতো না… যদি না পথভুল একটা মেঘের মায়া বা মায়ার মেঘ একঘর গানের বৃষ্টি বা এক–বৃষ্টি ঘরের গানে তাকে ভিজিয়ে একসা করতো। সে তো ভিজবে বলেই গান গাইতে এসেছে। বা ভেজাতে এসেছে গানে। সে গান তো মায়ার গান। মেঘের গান। মায়া মেঘের গান। বাকিটুকু মায়াবী আঁধার।
তিন–তিনটে বছর। অনলাইনে শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যাচ্ছে ‘খোয়াব’। কবিতার গান আর গানের কবিতায় এক অন্য ঘরানা গড়ে তুলেছেন রাজীব–নম্রতা জুটি। স্বাভাবিকভাবেই ‘খোয়াব’–এর ট্যাগলাইন ‘রোজ হোক গানের দিন’। প্রতিটি গান যেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে ধরা দেয় শ্রোতার কানে। রুমালে বিষাদ বেঁধে মুছে দেয় দূরত্বের ঘর। রাজীবের কবিতায় মন কেমনের যে মায়া জড়িয়ে থাকে, তাই যেন নম্রতার সুরের ডানায় ভর করে উড়ে যায় অন্তহীন সীমানায়। সম্প্রতি সামনে এসেছে ‘খোয়াব’–এর নতুন গান ‘মায়া মেঘ’। যা শ্রোতাকে একটা নতুন গানের স্বাদ দিয়েছে। অন্যগানের ছোঁয়া এনেছে।
তবে শুধু স্ক্রিনই নয়, গানের জুটি রাজীব চক্রবর্তী এবং নম্রতা ভট্টাচার্য তাদের গানের ডালি নিয়ে ধরা দিয়েছেন দর্শক–শ্রোতার সামনেও। যে সব অনুষ্ঠানে চোখে পড়েছে উচ্ছ্বাস। আসলে জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘খোয়াব’–এর পেছনে থাকা দুই কারিগর রাজীব–নম্রতা তাদের মৌলিক বাংলা গানকে শ্রোতার আরও মনের কাছাকাছি করে তুলতে পেরেছেন সিনেম্যাটিক গল্প বলার মধ্য দিয়ে।
রাজীব চক্রবর্তী ‘খোয়াব’–এর নেপথ্যের কবি। যাঁর লেখা প্রতিটি শব্দ সরাসরি মনের অলিন্দে গিয়ে উঁকি দেয়। কল্পনা আর বাস্তবের মেলামেশায় কবিতার ভাষা হয়ে ওঠে সকলের হৃদয়ের। অন্যদিকে ‘খোয়াব’–এর সুরের প্রাণ, সবকটি গানের সুরকার ও শিল্পী নম্রতা। তিন বছর আগে ইউটিউবে মৌলিক গান ও মিউজিক ভিডিও দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁদের। তারপর থেকে ‘খোয়াব’ এগিয়ে চলেছে গানের পথ ধরে। শ্রোতার অনুভব আর অনুভূতিকে সঙ্গী করে। কারণ রাজীব–নম্রতার ছোঁয়ায় গল্পরা গান হয়ে যায় আর স্বপ্নরা রূপ নেয় সুরে।
