রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রচারে রাষ্ট্রবাদের বার্তা, ‘মডেল বিধানসভা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর
সংবাদদাতা, রেজিনগর: বৃহস্পতিবার রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রচারে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শাখালভ সরকারের হয়ে জনসভা ও রোড শো করেন মুখ্য়মন্ত্রী। হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক তাস খেলবেন না, বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উপনির্বাচনে জিতলে ফলতার মতো রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু। জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম-ভবানীপুরের মতো রেজিনগরকেও নিজের বিধানসভা হিসাবেই দেখবেন। এখানে নেতাজি সুভাষ সেবা কেন্দ্র তৈরি করে পরিষেবা দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, রেজিনগরে শিল্পতালুক গড়ার কথাও বলেছেন তিনি।
রেজিনগরে পরিযায়ী একটা বড় সমস্যা। হাসপাতাল, কলেজ থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও পাবেন মানুষ। জনসভা থেকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যোগ্য সংখ্যালঘু মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার মতো সুবিধা পাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আয়ুষ্মান যোজনা থেকে অন্যান্য সরকারি সুবিধায় কোনও ভেদাভেদ থাকবে না। তিনি বলেন, “আমাদের ঋণে আবদ্ধ করুন। ৭০-৩০ শতাংশের গল্প শোনাবেন না। হিন্দু-মুসলিম করবেন না। ফলতার মতো রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা বানাব।”
গত রবিবার ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের প্রচারের সময়ে লজেন্স কুড়োতে গিয়ে রেজিনগরের জেসমিনা খাতুনের (৬) মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার জেসমিনার বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারকে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন। একই সঙ্গে জানালেন, ভোটের আদর্শ আচরণবিধি উঠে গেলে সরকারি সহযোগিতার বিষয়টিও তিনি দেখবেন।রেজিনগরের লোকনাথপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময়ে রবিবার সকালে লজেন্স কুড়োতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়েছিল জেসমিনা। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার রেজিনগরে দলীয় প্রার্থীর প্রচারে গিয়ে জেসমিনার বাড়িতে যান শুভেন্দু। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে চান। পরিবারের তরফে তাঁকে জানানো হয়, ছোট্ট জেসমিনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার আগেই অবস্থা আরও খারাপ হয়। এর পরেই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “আমি আছি। এখন নির্বাচনী বিধি বলবৎ আছে। তাই সরকারি ভাবে কিছু করা যাবে না। ৯ অক্টোবরের পরে যা করার আমি করব।” পরিবারের তরফে নাম ও ফোন নম্বর জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে জেসমিনার বাড়ির এক সদস্য আর্থিক ভাবে পাশে দাঁড়ানোর আবেদনও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর জবাব, তিনি ধীরে ধীরে সব দেবেন। আগে রেল ক্রসিংয়েও দুর্ঘটনার সময়ও তিনি এসেছিলেন বলে জানান মুখ্য়মন্ত্রী। এর পরে বাড়ির ভিতরে গিয়ে জেসমিনার এক দিদির সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তার পড়াশোনা নিয়ে খোঁজ নেন। জেসমিনার পরিবারের সদস্যদের পাশে বসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু। পরিবারের দুই ছেলে, মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জেসমিনার মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনী প্রচারে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচারের সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
