ফ্রান্সের রাজপথে পড়ুয়া বিক্ষোভ, বন্ধ স্কুল, স্তব্ধ জনজীবন
প্যারিস: ফ্রান্সের রাজপথের দখল নিয়েছে পড়ুয়ারা। আন্দোলনকারীর বিক্ষোভে জনজীবন ব্যহত। সরকারি তরফে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কয়েকশো স্কুল। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, ফ্রান্সের মোট ৩,৭০০টি হাই স্কুলের মধ্যে ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ভয়াবহ অবস্থা, অতিরিক্ত পড়ুয়ার চাপ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকার প্রতিবাদে পথে নেমেছে ছাত্রছাত্রীরা। সোমবারই ৩ লক্ষের বেশি পড়ুয়া রাজপথে নেমে আন্দোলনে সামিল হয়েছে। জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দেশজুড়ে আরও বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এই আন্দোলনে পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষজনও।
এই বিক্ষোভ প্রতিবাদের শুরুটা হয়েছে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে। সে সময় প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি হাই স্কুলে শিক্ষক-সংকটের জেরে পথে নেমেছিল পড়ুয়ারা। তারপর যত দিন গড়িয়েছে, আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহতের সংখ্যা বহু। সরকারি একটি সূত্রের দাবি, বিক্ষোভের ফলে কয়েক কোটি ইউরোর সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে।
এদিকে প্যারিসের পুলিশ প্রধান প্যাট্রিস ফোর একটি খোলা চিঠিতে পড়ুয়াদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরই ছাত্র সংগঠনগুলি ৬ অক্টোবর দেশজুড়ে আরও ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে। এরফলে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন দেশের নিরাপত্তা আধিকারিররা। তাঁদের আশঙ্কা, বিক্ষোভের তেজ আরও বাড়লে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটাও কিছু অসম্ভব নয়। কারণ, অতি-বাম ও নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীগুলো এই আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
