বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

সেমিতেই সাত গোলের ঝড় লাল-হলুদের, শিল্ড ফাইনালে কলকাতা ডার্বি

05 October, 2026 7:47 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, কলকাতা: দু’মিনিটে পিছিয়ে পড়েও সাত গোলের ঝড় তুলল ইস্টবেঙ্গল। আইএফএ শিল্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সোমবার নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পেল লাল-হলুদ ব্রিগেড। ডেভিড লালানসাঙ্গার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি অভিষেক ম্যাচই গোল পেলেন দুই নতুন বিদেশি, আকে লোবা ও লুকাস জিয়োলিনস্কি। আগের দিনই ফাইনালে উঠেছে মোহনবাগান। ফলে ডুরান্ড কাপের পর এই টুর্নামেন্টের ফাইনালেও মুখোমুখি হবে কলকাতার দুই প্রধান।

ম্যাচের শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না ইস্টবেঙ্গলের জন্য। কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাস প্রথম একাদশে রেখেছিলেন তিন বিদেশিকে। ফরোয়ার্ডে ক্রিস ইকনোমিডিস, মাঝমাঠে দানি রামিরেজ, রক্ষণে দিয়েগো জিভুলিচ। সেই জিভুলিচের দুর্বল ক্লিয়ারেন্সই পৌঁছে যায় আলাদিন আজারাইয়ের পায়ে। গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপাকে কাটিয়ে তিনি নর্থইস্টকে এগিয়ে দেন। শুরুর দিকে খেলা নিয়ন্ত্রণও ছিল অতিথিদের হাতে। আজারাইয়ের পাস থেকে জিতিন এমএসের সামনে আরও একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এগিয়ে এসে সেটি রুখে দেন লাচেনপা। ওই সেভ না হলে ম্যাচের গতিপথ অন্যরকম হতে পারত।

১১ মিনিটে সমতা ফেরান ডেভিড। ক্রিসের ভাসানো বলে হেড করতেই নর্থইস্ট গোলকিপার মোহনরাজের মাথার উপর দিয়ে জালে জড়ায় বল। এরপর থেকে ম্যাচের রাশ ইস্টবেঙ্গলের হাতে। ২৩ মিনিটে এগিয়ে যায় দল। বাঁ দিক থেকে দানির বাড়ানো বল পেনাল্টি স্পটের কাছে অরক্ষিত অবস্থায় পেয়ে যান রোহিত কুমার, জোরালো শটে জাল কাঁপান তিনি। আধ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল। রামিরেজের চিপ মোহনরাজকে ছাড়িয়ে গোলের দিকে যাচ্ছিল, গোলকিপার বল ছুঁয়ে ফেললেও পুরোপুরি আটকাতে পারেননি, শেষ মুহূর্তে সেটি গোললাইন থেকে বাঁচানো হয়। সেই সময়ই বক্সে ডেভিডকে ফেলে দেওয়া হলেও পেনাল্টি দেননি রেফারি। বিরতির ঠিক আগে নর্থইস্টের রক্ষণ আবার ভুল করে বসে। দীনেশ সিং বল সরাতে ব্যর্থ হতেই সুযোগ কাজে লাগান ক্রিস। ৩-১ ব্যবধানে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের ব্য়বধান বাড়ান ডেভিড। ৫৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক গোলও করে ফেলেন তিনি। বক্সের মধ্যে বল পেয়ে দীনেশকে পাত্তা না দিয়ে গোলকিপারকে দাঁড় করিয়ে রেখে শট নেন তিনি, বারে লেগে বল জালে ঢোকে। স্কোরলাইন তখন ৫-১। ৬০ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নতুন বিদেশি আকে লোবাকে নামান হাবাস। শেষ ২০ মিনিটে মাঝমাঠে চাপ বাড়ালেও ফাইনাল থার্ডে এসে বারবার এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল নর্থইস্টের আক্রমণ। পাঁচ গোলে পিছিয়ে থাকার হতাশাও স্পষ্ট ছিল তাদের খেলায়। তবু একটি গোল শোধ করে তারা। ডান দিক থেকে রাবিহের ক্রসে আজারাইয়ের হেড পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

গোল হজম করে আরও ঝাঁঝালো হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ৮৫ মিনিটে রশিদের পাস থেকে দুর্দান্ত ভলিতে অভিষেক ম্যাচেই গোল করেন আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার লোবা। সংযুক্তি সময়ে সপ্তম গোলটি আসে আরেক অভিষেককারী লুকাস জিয়োলিনস্কির পা থেকে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC