দুটি সরকার পোষিত কলেজের শীর্ষে শর্বরী
নিজস্ব প্রতিবেদন : যাদপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা আন্দোলন ও অশান্তির ঘটনার মাঝেই সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনীত করলো পশ্চিমবঙ্গ উচ্চশিক্ষা দপ্তর।
উল্লেখ্য,নতুন সরকার গঠনের পর, ২৬ শে মে কলেজ গুলির গভর্নিং বডি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একাধিক বিধায়ক দের। যাদবপুর বিশ্বাবিদ্যালয়ের অশান্তির ঘটনায় শিরোনামে থাকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে দেওয়া হয় দুটি কলেজের গভর্নিং বডির দায়িত্ব। পাশাপাশি ইন্দ্রনীল খাঁ, কৌস্তভ বাগচী সহ একাধিক বিধায়ক রয়েছেন এই সভাপতির তালিকায়।
রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করলপশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মনোনীত করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলিতে আগে নিযুক্ত প্রশাসকদের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। উচ্চশিক্ষা দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসন ও পরিচালনা আইন, ২০১৭-এর ৫(১) ধারার সঙ্গে ৪(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই মনোনয়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে রাজ্যের ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের জন্য সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল, যিনি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, এই ব্যক্তিদের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন করতে সম্মতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, নবনিযুক্ত সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কলেজে আগে নিযুক্ত প্রশাসকের কার্যকাল শেষ হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত কলেজগুলিতে এবার নতুন করে গভর্নিং বডির সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হল।
উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রকাশিত তালিকায় জেলা, কলেজের নাম এবং মনোনীত সভাপতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকাটি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ২৪৭টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিজ্ঞপ্তির সংযুক্ত তালিকায় আলিপুরদুয়ার জেলার পীযূষকান্তি মুখোপাধ্যায় মহাবিদ্যালয়-এর নামও রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের জন্য সভাপতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য জেলার কলেজগুলির ক্ষেত্রেও একইভাবে মনোনীত সভাপতিদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির প্রতিলিপি উচ্চশিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, অতিরিক্ত সচিব, জনশিক্ষা অধিকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং কলেজগুলির অধ্যক্ষদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ফলে এখন সংশ্লিষ্ট কলেজগুলিতে নতুন সভাপতিদের দায়িত্ব গ্রহণের পর গভর্নিং বডির কাজ শুরু করার প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
কলেজ পরিচালনার ক্ষেত্রে গভর্নিং বডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কলেজের বিভিন্ন নীতিগত বিষয় এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিচালনায় এই কাঠামোর ভূমিকা রয়েছে। ফলে একসঙ্গে ২৪৭টি কলেজে সভাপতি মনোনয়নের সিদ্ধান্তকে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।নতুন সভাপতিদের দায়িত্ব গ্রহণের পর কলেজগুলিতে গভর্নিং বডির কার্যক্রম কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পড়ুয়া এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের।
