স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ!
নয়াদিল্লি : সামান্য পারিবারিক বিবাদ থেকেই শেষ পর্যন্ত চরম পরিণতি। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে দিল্লির নিহাল বিহার এলাকায়। ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত মৃতের স্ত্রী, তাঁর দুই ভাই এবং এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বিনয় গুপ্ত। বয়স ৩১ বছর। তিনি একটি বহুজাতিক সফটওয়্যার সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। বুধবার সকালে নিজের বাড়িতেই তাঁর সঙ্গে স্ত্রী রেখার তীব্র বচসা হয়। পরিবারের দাবি, তাঁদের কয়েক মাস বয়সি সন্তানের ওষুধ খাওয়ানোকে কেন্দ্র করেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলার সূত্রপাত।
অভিযোগ, বচসার সময় রেখা নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ১০ মিনিট পর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ফের স্বামীর বাড়িতে পৌঁছন বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে রেখার দুই ভাই, এক বোনের স্বামী, বাবা এবং অন্যান্য কয়েকজন আত্মীয়ও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। সেই ফুটেজে বাড়ির সামনে কয়েকজনকে জড়ো হতে দেখা গিয়েছে। অভিযোগ, এরপরই বিনয়ের উপর হামলা চালানো হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, বিনয়কে একাধিক ব্যক্তি মিলে মারধর করেন। তাঁর মা সেই সময় বাড়িতেই ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, অতিথিদের জন্য জল এবং আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে দেখেন, তাঁর ছেলেকে ঘিরে মারধর চলছে।
বিনয়ের মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং হামলা থামানোর জন্য অনুরোধ জানান বলেও পরিবারের দাবি। কিন্তু অভিযোগ, তাঁর অনুরোধ সত্ত্বেও মারধর চলতে থাকে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁদের দাবি, ঘটনার আগে বাড়ির বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
হামলার কিছুক্ষণ পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিনয়কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিবেশীদের সাহায্যে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিনয় এবং রেখার মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, অতীতেও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি হয়েছে। এমনকি রেখার পরিবারের এক সদস্য আগেও বিনয়কে হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁর পরিজনেরা। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে দেখছে পুলিশ।
বিনয় গুপ্ত একটি বহুজাতিক সফটওয়্যার সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। জানা গিয়েছে, তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রেখার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের যমজ সন্তান রয়েছে—একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে। সন্তানদের বয়স এখনও পাঁচ মাসেরও কম বলে জানা গিয়েছে।
পরিবারটি দিল্লির নিহাল বিহারের একটি বাড়িতে থাকত। বিনয় ও তাঁর স্ত্রী বাড়িটির তৃতীয় তলায় থাকতেন, আর তাঁর বাবা-মা থাকতেন নীচের তলায়। মৃতের পরিবারের দাবি, রেখা এবং তাঁর স্বামীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই টানাপোড়েন ছিল।
এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মৃতের স্ত্রী রেখা, তাঁর দুই ভাই এবং পরিবারের আরও এক মহিলা সদস্য। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
একটি সাধারণ পারিবারিক অশান্তি কীভাবে এত বড় মর্মান্তিক ঘটনায় পরিণত হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। বিনয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে আরও বড় পরিকল্পনা থাকতে পারে। অন্যদিকে, গোটা ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
