বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

বারুইপুরের বাপি খুনে ধৃত ‘বিজেপি নেতা’-সহ চার !

25 August, 2026 6:52 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : রাজ্যের ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মাথায় ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বঙ্গ রাজনীতি। বালুরঘাটের পর এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর (Baruipur)। বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় বিজেপিরই এক পুরনো ও সক্রিয় কর্মী বাপি প্রামাণিক খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হলো দলেরই চার সদস্যকে। এই মর্মান্তিক ঘটনা ও দলীয় কর্মীদের গ্রেফতারির পর প্রশ্নের মুখে পড়েছে জেলা নেতৃত্ব। সবচেয়ে বড় কথা, এই ঘটনার পর কি এক ধাক্কায় অনেকটাই চাপ বাড়ল বঙ্গ বিজেপির ওপর?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত সুজন মণ্ডল। এ ছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে কৃষ্ণ মণ্ডল, কনক মণ্ডল ও অনিল নাইয়াকে। এরা সকলেই উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ার বাসিন্দা। সোমবার গভীর রাতে বারুইপুর জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এলাকা থেকেই চারজনকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাদের বারুইপুর আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

কী ঘটেছিল রবিবার রাতে?

নিহত বাপি প্রামাণিক ছিলেন এলাকার অত্যন্ত পুরোনো ও সক্রিয় বিজেপি কর্মী। স্থানীয়দের দাবি, বিগত দশ বছর ধরে তৃণমূলের ‘অত্যাচারের’ ভয়ে তাঁকে দিনের পর দিন ঘরছাড়া হয়ে থাকতে হয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আশ্বস্ত হয়ে তিনি গ্রামে ফেরেন এবং একটি ছোট দোকান খুলে নতুন করে জীবনযাপন শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হলো না।

পরিবারের অভিযোগ, রবিবার রাতে ফোনে বাপিকে ডেকে পাঠানো হয়। মাঝরাস্তায় ঘিরে ধরে তাঁকে বেধড়ক মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। সোমবার ঘটনার পর থেকে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহতের পরিবারের দাবি, সুজন মণ্ডল নামে বিজেপি নেতাই মূল চক্রান্তকারী এবং সে-ই দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

পুলিশি তৎপরতা ও নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া

পরিবারের দায়ের করা এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে সুজন ও তার তিন সঙ্গীকে আটক করে। জেলা পুলিশের আধিকারিকরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে বয়ানে একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। এরপরই পুলিশ চারজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী সুজনই।

এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অস্বস্তি ঢাকতে ময়দানে নেমেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের প্রাক্তন জেলা সভাপতির দাবি, অভিযুক্ত সুজন মণ্ডলের সঙ্গে বিজেপির এই মুহূর্তে কোনো সম্পর্ক নেই, তাকে অনেক আগেই দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

তিন মাসের নতুন সরকারের জমানায় বিজেপি কর্মীর হাতেই বিজেপি কর্মী খুনের এমন মারাত্মক অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই ধাক্কা খেয়েছে দলের ভাবমূর্তি। একদিকে শীর্ষ নেতৃত্ব যখন বারবার কোন্দল রোখার বার্তা দিচ্ছে, ঠিক তখনই বারুইপুরের এই ঘটনা দলের অন্দরের ফাটলকে জনসমক্ষে এনে দিল। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সুজন মণ্ডল সাসপেন্ডেড কি না, তা নিয়ে বিজেপির যুক্তি যাই থাকুক না কেন, নিচুতলার কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভ ও কোন্দল সামাল দিতে আগামী দিনে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee