বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

অরিজিতের পথেই এবার প্লেব্যাক থেকে স্বেচ্ছাবসর সঙ্গীত পরিচালক অমাল মালিকের

28 August, 2026 5:22 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

রিমি দত্ত : বছরের শুরুতেই সুরের দুনিয়ায় বাজ পড়েছিল।

গত জানুয়ারিতে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে আকস্মিকভাবেই প্লেব্যাক থেকে ‘বানপ্রস্থ’ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে কোটি কোটি অনুরাগীকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিলেন অরিজিৎ সিং। কেরিয়ারের একবারে শিখরে বসে ‘প্লেব্যাক সম্রাট’-এর সেই প্রস্থান নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নাকি কেবলই শিল্পীর ব্যক্তিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ, তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী। অরিজিতের সেই চরম সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই, আট মাসের মাথায় ঠিক তাঁরই পথ অনুসরণ করলেন বলিউডের জনপ্রিয় সুরকার ও গায়ক অমাল মালিক (Amaal Mallik)। আপাতত প্লেব্যাক জগতকে চিরতরে না হলেও লম্বা সময়ের জন্য ‘আলবিদা’ জানালেন এই তরুণ সঙ্গীত পরিচালক।

বৃহস্পতিবার নিজের সোশাল মিডিয়ায় হাসপাতাল থেকে একটি ছবি ভাগ করে নিয়ে সঙ্গীত দুনিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অমাল। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ইমরান হাশমি অভিনীত ‘আওয়ারাপন ২’ ছবিতে অমালের গাওয়া ‘ইয়ে আওয়ারাপন’ গানটি ইতিমধ্যেই শ্রোতাদের মন জয় করেছে। কিন্তু সেই সাফল্যের রেশ মাঝেই তাঁর এই আকস্মিক বিরতির বার্তা ভক্তদের মনে দুশ্চিন্তার মেঘ জমিয়েছে।

সোশাল মিডিয়ায় নিজের আবেগঘন বার্তায় অমাল স্পষ্ট জানান, “আমি ভালো আছি। কিন্তু এবার নিজের জন্য এবং নিজের সার্বিক সুস্থতার কথা ভেবে যা করা প্রয়োজন, ঠিক সেটাই করব। মন, শরীর, আত্মা এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য আমার এবার খানিক বিরতির প্রয়োজন। একটু থামতে চাই, আবার নতুন করে নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াতে চাই, নিজেকে সময় দিতে চাই। খুব তাড়াতাড়ি তোমাদের জন্য নতুন সুর নিয়ে ফিরব।”

নিজের শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের কথা বলার পাশাপাশি কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও অমাল যে মোটেও স্বস্তিতে নেই, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট। তিনি লেখেন, “স্পষ্ট বলে দিই, আগামী বছর পর্যন্ত আমি আর কোনো প্লেব্যাক করছি না। তবে কিছু পুরনো অপ্রকাশিত সিনেমার গান শিগগিরি মুক্তি পেতে পারে, যদি সেই সিনেমাগুলো আদৌ প্রেক্ষাগৃহে আলো দেখে! কারণ স্বল্প বাজেটের এই ছবিগুলো ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হলেও আজকের দিনে সহজে সিনেমা হল পাওয়া যায় না। তাই প্রজেক্টগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।” এর সঙ্গেই জল্পনায় ইতি টেনে অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সংযোজন, “দয়া করে আমাকে এ বিষয়ে আর বিরক্ত করবেন না, নতুন কিছু ঘটার থাকলে আমি নিজেই জানিয়ে দেব।”

গত বছরই নিজের পারিবারিক কলহের কথা প্রকাশ্যে এনে মারাত্মক মানসিক অবসাদের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সুরকার দাবু মালিকের এই জ্যেষ্ঠ সন্তান। একদিকে অরিজিতের প্রস্থান, অন্যদিকে বলিউডের অনিয়ন্ত্রিত ইনসাইডার কালচার ও অন্যায় রাজনীতির শিকার হয়ে অমালের এই বৈরাগ্যপ্রকাশ— সিনেপাড়ার মিউজিক্যাল দুনিয়াকে নতুন এক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। বলিউডের প্লেব্যাক সিস্টেমে সত্যি কি এমন কোনো অদৃশ্য ষড়যন্ত্রের খেলা চলছে, যার জেরে একের পর এক প্রতিশ্রুতিমান প্রতিভা মাইক গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন? উত্তর যাই হোক, সুরের জগতের এই জোড়া ধাক্কায় আপাতত সঙ্গীতপ্রেমীদের মন যে ভারী, তা বলাই বাহুল্য।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee