আরজি কর কাণ্ডে সিবিআই-কে ৩ সপ্তাহের কড়া ডেডলাইন হাই কোর্টের
নিজস্ব প্রতিবেদন : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় সিবিআই-এর পুনর্তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত কড়া মনোভাব কলকাতা হাই কোর্টের। নতুন তদন্তকারী দলকে আর কোনও ঢিলেঢালা মনোভাব না দেখিয়ে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘ফারদার ইনভেস্টিগেশন’-এর কাজ পুরোপুরি শেষ করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এই বহুল চর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন কলকাতা হাই কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি প্রক্রিয়ায় ছিল অভূতপূর্ব সতর্কতা ও গোপনীয়তা। সম্পূর্ণ রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানি পর্ব পরিচালিত হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানিকালে সিবিআই-এর নতুন তদন্তকারী দলের প্রতিনিধিরা ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এ যাবৎ পরিচালিত পুনর্তদন্তের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল রিপোর্টের বিস্তারিত নথি পেশ করেন।
নির্যাতিতা চিকিৎসকের পরিবারের তরফে আদালতের মাধ্যমে সিবিআই-এর কাছে মোট ৫৪টি সন্দেহজনক বিষয় ও অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। শুক্রবার সিবিআই বেঞ্চকে জানায়, সেই ৫৪টি মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তারা নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখেছে। দ্বিতীয় দফার এই বিশেষ তদন্তে কী কী নতুন সূত্র উঠে এসেছে, তাও সিলবন্ধ কভারে আদালতকে অবহিত করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
ঘটনার প্রাক-মুহূর্তের রহস্য উন্মোচনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বক্তব্যের বয়ান নেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, ভয়াবহ সেই রাতে আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জন্য যিনি রাতের খাবার পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই ফুড ডেলিভারি বয়কে শনাক্ত করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ঘটনার রাতে সেমিনার রুমে নির্যাতিতা চিকিৎসকের সঙ্গে শেষবারের মতো যে চারজন সহকর্মী চিকিৎসক নৈশভোজ করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকেই পুনরায় মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার কাজ সম্পন্ন করেছে তদন্তকারীরা।
যদিও হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চের কাছে পুনর্তদন্তের বাকি কাজ নিখুঁতভাবে গুটিয়ে আনতে আরও চার সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেছিল সিবিআই-এর নতুন দল। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন একটি স্পর্শকাতর মামলায় তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা অনুচিত। গোয়েন্দাদের সেই আবেদন আংশিক নাকচ করে তিন সপ্তাহের কঠোর ডেডলাইন বেঁধে দেন বিচারপতির দ্বয়।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে সিবিআই-কে তাদের চূড়ান্ত এবং সমন্বিত তদন্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে। এখন দেখার, আদালতের দেওয়া এই তিন সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনার পেছনের অদেখা ষড়যন্ত্র এবং পরিবারের তুলে ধরা বাকি ৩৮টি প্রশ্নের রহস্য উন্মোচন করতে পারে কিনা।
