বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

ভারী বর্ষায় বিপর্যস্ত উত্তর ভারত, বন্যার আশঙ্কায় একাধিক রাজ্য

05 September, 2026 3:01 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর: এবছর বর্ষায় অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহার থেকে শুরু করে জম্মু-কাশ্মীর সহ উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে নদীর জলস্তর বেড়ে দেখা দিয়েছে বন্যা। কোথাও নদীর জল ঢুকে পড়েছে গ্রামে, কোথাও ডুবে গিয়েছে রাস্তা, ঘর বাড়ি। বহু এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত, পরিষেবা ব্য়াহত হওয়ায় প্রশাসনকে নামতে হয়েছে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে।
উত্তরপ্রদেশে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যের অন্তত ২৬টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। অযোধ্যা, বারাণসী, আজমগড়, বালিয়া, গোরক্ষপুর, লখিমপুর খেরি, চিত্রকূট ও বরাবাঁকি-সহ একাধিক জেলায় বন্যার প্রভাব দেখা দিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। বারাণসীতে গঙ্গার জল বিপদসীমার ওপরে উঠে ঘাটগুলির বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ২ সপ্তাহ বন্ধ করে রাখা হয়েছে নৌকা পরিষেবা। একাধিক গঙ্গার ঘাটে দেহদাহ করার কাজেও বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ত্রাণশিবির খোলা এবং দুর্গত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেরাদুন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রবল বর্ষণে নদীর জল হু হু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। গঙ্গা ও যমুনার জলস্তর বৃদ্ধির কারণে নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি রাজ্যে অতিবৃষ্টির সঙ্গে ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিহারে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে গঙ্গা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর বৃদ্ধিতে। গঙ্গা, গণ্ডক, কোশি, বুড়ি গণ্ডক, বাগমতী, ঘাঘরা নদীর বেশ কিছু অংশে জল বিপদসীমার ওপরে বইছে। শনিবার সকালে পাটনার গান্ধী ঘাটে গঙ্গার জলস্তর সর্বোচ্চসীমার উপরে উঠে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলিতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল এনডিআইএফ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ৭০০টি সরকারি নৌকা উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। পাটনা, ভাগলপুর, মুঙ্গের, বৈশালী-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় ত্রাণশিবির ও কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়েছে।

এদিকে জম্মু-কাশ্মীরেও বর্ষার মরশুমে একাধিক দফায় আকস্মিক বন্যা ও প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি হলে নদী ও নালায় হঠাৎ জল বাড়ার পাশাপাশি রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এর আগে চলতি বর্ষায় জম্মু-কাশ্মীর-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও দেশের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ইতিমধ্যেই বন্যাকবলিত রাজ্যগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর ও মধ্য ভারতের একাধিক অঞ্চলে প্রশাসনকে নদীর জলস্তর, বাঁধ এবং নিচু এলাকাগুলির উপর লাগাতার নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC