রাশিয়ায় ফের মৃত্যু প্লেগে? রিপোর্ট তলব করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
মস্কো: প্লেগে ফের মৃত্যু রাশিয়ায়। এই নিয়ে প্রাণ গেল দুজনের। এই রোগে প্রথম মারা গিয়েছিলেন সাইবেরিয়ার অ্যান্টি-প্লেগ ল্যাবরেটরিতে কর্মরত এক তরুণী। যদিও দ্বিতীয় মৃত্যুর বিষয়ে মস্কো এখনও সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করেনি। কোভিডের পর কি এবার বিশ্বে আসতে চলেছে নতুন মহামারি? এই প্রশ্নেই এখন উত্তাল দুনিয়া। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস গেব্রিয়েসুস রাশিয়ার কাছে জানতে চেয়েছেন—তরুণীর মৃত্যুর কারণ কী? কোন জীবাণুর আশঙ্কায় এতজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং দ্বিতীয় কর্মীর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর সত্যি কি না।
প্রথম ঘটনাটি ২ অক্টোবরের। গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন ইরকুৎস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটোরিতে কর্মরত তরুণী ডারিয়া শিপিলোভার। জানা গিয়েছিল, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষাগারে কাজ করার সময়ে একটি জীবাণু ভর্তি টেস্ট টিউব ভেঙে যায়। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওই টেস্টটিউবে ছিল নিউমোনিক প্লেগের জীবাণু। দাবি, এর পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ডারিয়া। গুরুতর নিউমোনিয়া নিয়ে তিনি সাইবেরিয়ার শেলেখভের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। যদিও রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে , ডারিয়া ‘অজানা কারণে নিউমোনিয়া’-তে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরীক্ষায় তাঁর দেহে ল্যাবের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও জীবাণুর সন্ধান মেলেনি। ইনস্টিটিউটেও রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে বিস্ময়কর ব্যাপার হল, যে প্রতিষ্ঠানে তরুণী কাজ করতেন সেটি প্লেগ-সহ একাধিক ভয়ঙ্কর সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা করে। ফলে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে নিউমোনিক প্লেগের আশঙ্কাই ছড়িয়ে পড়ে।
ডারিয়ার মৃত্যুর পর হাসপাতাল ও তার সংস্পর্শে আসা লোকজনদের কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়। কমপক্ষে ২০০ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। রাশিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা তদন্ত শুরু করে এবং ওই মহিলার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করে।
