চোরবাগান কাণ্ডে কেউ ছাড় পাবে না, তদন্ত কমিটির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, শোকার্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ রাজ্যের
সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগানের ঘটনায় সিটিং জাজকে নিয়ে তদন্ত কমিটি হবে। সর্বস্তরে ত্রুটিমুক্ত ভাবে তদন্ত হবে। তদন্তে যাদের দায় উঠে আসবে, তারা শাস্তি পাবেই। হাসপাতালে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এমনই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে মাথাপিছু ২৫ লক্ষ টাকা ও চাকরির ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছেই জানান, “চোরবাগানের ঘটনা দুর্ঘটনা। কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে, তবে মণ্ডপে আলো কম ও বৃষ্টি এই দুর্ঘটনাও এর কারণ। অন্যন্য পুজো কমিটি-কে বলব শিক্ষা নিন। থিমের থেকে মানুষের প্রাণ আগে।” রাজ্য সরকার দুর্গাপুজো সংক্রান্ত সব কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রেখেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, “অযথা আতঙ্কিত হবেন না।”

চোরবাগানের ঘটনার পরই ক্লাবের কর্মকর্তাদের আটক করা হয়।বেশ কিছু উদ্যোক্তা আবার বেপাত্তা বলেও অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান এই নিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে ১৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ১২-১৩টি মৃত পরিবারের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলেছি। আমরা প্রত্যেকের কাছে একটাই কথা বলেছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে যারা ছিলেন, ক্লাব কর্তা, পুলিশ, এজেন্সি যে হোক, তাদের মার্ক করে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। বিশেষ মামলা শুরু করা হবে। কোনও স্তরে আমরা কোনও ত্রুটি রাখব না। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বলব, একজন সিটিং জাজকে দিতে। যেহেতু অনুমতি নেওয়া পুজো। কলকাতা পুলিশ বা সরকারি সংস্থার কোনও গাফিলতি থাকলে আমরা সিটিং জাজের নেতৃত্বে অন্য আইনি সহায়তা নিয়ে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তৈরি হবে।”
একটি ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আমি তুলনা করতে চাই না। এর আগেও পুজোর সময় দুটি ঘটনা ঘটেছিল। একবার বৈদ্যুতিক শকে ১৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়। আর একবার পুজোর সময় হড়পা বাণেও উত্তরবঙ্গে অনেক মানুষ প্রাণ হারান। সোশ্যাল মিডিয়াতে যারা রাজনীতি করছেন, তাই আপনাদের বলছি। পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটবেন না। আপনাদের উপর লোক থুতু ফেলবে। এখানে আমি মন্ত্রিসভার সবাইকে নিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী, ডিজি, সিপি -সহ সবাইকে নিয়ে, যা যা করা সম্ভব। মৃতদের তো ফিরিয়ে নিতে পারব না। এই মুহূর্তে মেডিকেল কলেজে বসে আছি। এখানে লোকাল বিধায়ক আছে। আমরা কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করব। প্রত্যক্ষদর্শীরাও সাক্ষ্য দেবেন। দ্বিতীয়ত মৃত পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে এবং একটি করে গ্রুপ ডি চাকরি দেওয়া হবে। যে হাসপাতালে আহত পরিবার চিকিতসা করতে চান, সেখানে চিকিতসা হবে। আহতদের প্রত্যেক পরিবার ৫ লক্ষ টাকা পাবে। আরেকটি সিরিয়াস হলে এটা এড়ানো যেত। থিমের থেকে মানুষের জীবন আগে। চোরবাগান থেকে শিক্ষা নিন। এই নিয়ে রাজনীতি করবেন না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমস্ত কর্মসূচি বন্ধ রাখছি। পুজো সম্পর্কিত সব কর্মসূচি স্থগিত থাকছে। দর্শনার্থীদের ভক্তদের পুজোতে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ করব। আতঙ্কিত হবেন না। প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন। “
