মন্থর শহুরে জীবনে ট্রামের নস্টালজিয়া, স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলবে খিদিরপুর পল্লী শারদীয়া
সংবাদদাতা, কলকাতা: দুর্গাপুজো মানেই ঐতিহ্য, আবেগ আর নস্টালজিয়ার মেলবন্ধন। আর সেই আবেগকে সঙ্গী করেই এক বিশেষ ভাবনা নিয়ে হাজির হল খিদিরপুর পল্লী শারদীয়ার। এবারের তাদের পুজোর থিম ‘চল যাব তোকে নিয়ে’। পুরনো কলকাতার স্মৃতিমাখা অলিগলি, ট্রামের ঘণ্টাধ্বনি এবং সাবেকি শহুরে জীবনের নস্টালজিয়া ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। যে ট্রাম প্রায় বাতিল হতে বসেছিল, সেই ট্রামই যেন এবার ডাকছে, ‘চল যাব তোকে নিয়ে’।
খিদিরপুরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার ট্রাম পরিষেবার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। খিদিরপুর থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত কলকাতার প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাম পরিষেবার সূচনার স্মৃতি এই এলাকার ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সেই ইতিহাসকেই এবারের পুজোর মূল ভাবনায় তুলে ধরতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। ট্রাম কলকাতার কাছে শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং শহরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং নস্টালজিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে। ট্রামের ঘণ্টাধ্বনি, কাঠের কামরা আর ধীরগতিতে শহরের বুক চিরে এগিয়ে চলার দৃশ্য আজকের এই ব্যস্ত জীবনেও সেই সময়কালকে যত্নে লালন করে। দুর্গাপুজোও তো বাঙালির কাছে মিলন, আনন্দ, সম্প্রীতি ও আবেগের উৎসব। এই দুই ঐতিহ্যকে একসূত্রে বেঁধেই তৈরি হয়েছে এবারের থিমের ভাবনা।
উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনায়, স্মৃতির সেই ট্রামে চেপেই মণ্ডপে আগমন ঘটেছে দেবী দুর্গার। মণ্ডপসজ্জার বিভিন্ন শিল্পরূপের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুরনো কলকাতার পরিচিত ছবি, ট্রামের কাঠের কামরা, ঘণ্টাধ্বনি এবং শহরের হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের নানা দিক। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশ করে যেন ফিরে যেতে পারেন এক অন্য কলকাতায়, যেখানে শহরের ব্যস্ততার মাঝেও ট্রামের ছন্দে মিশে থাকত এক চেনা আবেগ।
‘চল যাব তোকে নিয়ে’—শুধু একটি থিম নয়, বরং অতীতের স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা। পুরনো কলকাতার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেওয়াই এই ভাবনার অন্যতম আকর্ষণ। এ ছাড়া ট্রামের ভাড়া এক আনা বাড়ানোর জন্য ট্রাম জ্বালিয়ে ফেলা হয়েছিল, সেই দৃশ্যও তুলে ধরেছেন পুজো উদ্যোক্তারা। সব মিলিয়ে, খিদিরপুর পল্লী শারদীয়ার ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবে ট্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি এই স্মৃতিমেদুর ভাবনা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ কলকাতার ট্রাম আর বাঙালির দুর্গাপুজো—দুটিই শুধু ইতিহাস বা উৎসব নয়, বরং বাঙালির আবেগ, আত্মপরিচয় এবং চিরন্তন স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
