মহালয়া কী? কেন?
জ্যোতিষাচার্য উৎপলকুমার দাস
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এ বছর ২২ আশ্বিন অর্থাৎ ৯ অক্টোবর ২০২৬ রাত্রি ৯-৩৬ মিনিটে অমাবস্যা শুরু হচ্ছে। ১০ অক্টোবর ২০২৬ সারাদিন অমাবস্যা থাকবে। অমাবস্যা শেষ হবে ওই দিন রাত ৯-২০ মিনিটে। এই দিনটি মহালয়া অমাবস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। এই সময়টাই শনি বক্রি রয়েছেন। মানে তিনি ক্রমশ পেছনের দিকে সরে যাচ্ছেন। ২৭ নং নক্ষত্র অর্থাৎ রেবতি নক্ষত্রে তিনি অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ৯ অক্টোবর রাত ৮-৪৩ মিনিটে শনি পশ্চাৎগমন করে ২৬ নং নক্ষত্র অর্থাৎ উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্রে যাচ্ছেন। মীন রাশিতে যাদের যাদের চন্দ্র উত্তর ভাদ্রপদ নক্ষত্রে আছে, তাদের শনির সাড়েসাতিগত সমস্যা বাড়বে। বয়স্ক মানুষদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
মীন রাশিতে যাদের চন্দ্র ২৬ নং অর্থাৎ উত্তরভাদ্রপদ নক্ষত্রে আছে তাদের মানসিক চাপ বাড়বে। এই অবস্থা জারি থাকবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত। সুতরাং মীন রাশির জাতক-জাতিকা যাদের উত্তর ভাদ্রপদ নক্ষত্রে জন্ম, তাঁরা বিশেষ সতর্ক থাকবেন। কোনও সমস্যা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবিধান করার চেষ্টা করবেন।

এবার প্রশ্ন হল মহালয়া কী?
পিতৃপক্ষের বা কৃষ্ণপক্ষের শেষ এবং শুক্লপক্ষ বা দেবীপক্ষে সূচনায় অমাবস্যার একটি নির্দিষ্ট ক্ষণকে ‘মহালয়া’ বলা হয়ে থাকে। কথাটি হল ‘মহালয়’। অর্থাৎ মহা এবং আলয়। অথবা ভিন্ন মতে মহত্বের আলয়— মহালয় তিথি। ‘তিথি’ শব্দটি যেহেতু স্ত্রীলিঙ্গ, সেই জন্য কথাটি হয়ে গিয়েছে ‘মহালয়া’। ‘আলয়’ কথাটির অর্থ এখানে আশ্রয়। অর্থাৎ মহান বা মহত্বের আশ্রয়ই হল মহালয়া। এবার প্রশ্ন হল, আশ্রয়টি কোথাকার? উত্তর হল, পরমাত্মা বা পরম ব্রহ্মে।
আরেকটি মত অনুযায়ী, যেদিন মর্ত্যলোক দেবীর আগমনে মহঃ বা তেজ প্রভায় অথবা উৎসবের আলোকে ভরে ওঠে সেই দিনটিকেই বলা হয় মহালয়া। শাস্ত্রমতে আমাদের প্রয়াত পূর্বপুরুষ অর্থাৎ তাদের আত্মা মর্ত্যলোকে নেমে আসেন জীবিত বংশধরদের থেকে অন্ন ও জল গ্রহণের জন্য। তাদের উদ্দেশে আমরা সেদিন গঙ্গার ঘাটে বা কোনও জলাশয়ে গিয়ে তিল, যব, জল দিয়ে যে বিশেষ শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করি বা তাদের আত্মাদের নিবেদন করি, তাকেই বলে তর্পণ। যে সকল আত্মার তৃপ্তির জন্য আমরা তিল, জল প্রভৃতি অর্পণ করি, তাঁরা আমাদের আশীর্বাদ করেন। যা আমাদের সারা বছরের পাথেয়। মহালয়ার পরদিন থেকেই শুরু হয় দেবীপক্ষ বা শুক্লপক্ষ।
