শারদীয়ার সময়ে কেন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? কী বলছে জ্যোতিষ?
জ্যোতিষাচার্য উৎপলকুমার দাস
যখন সারা বাংলা শারদীয়া দুর্গাপুজোর আনন্দে ভাসছে, ঠিক তখনই ১৭ অক্টোবর সন্ধে ৭–৪০ মিনিট নাগাদ উত্তর কলকাতার মেছুয়াবাজার, কলেজ স্ট্রিটের কাছে চোরবাগান দুর্গোৎসব সমিতি আয়োজিত পুজোয় ঘটল এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যা আগে কখনও দেখেনি কলকাতা। অন্তত কোনও দুর্গাপুজোর সময় তো নয়ই। ১৯ জন সহ– নাগরিককে হারালাম আমরা। কমপক্ষে ৪০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। আশঙ্কাজনক অবস্থা কারোর কারোর। কার দোষ বা কার ভুলে এই অভিশপ্ত ঘটনা ঘটে গেল, তা ভাবার সময় এখন নয়। বরং সবাই দ্রুত এগিয়ে এসে এই সবহারা পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোটাই এখন কর্তব্য।
গত সেপ্টেম্বর মাসে আমি আমার একটি লেখায় আভাস দিয়েছিলাম যে, মঙ্গল এখন নীচস্থ এবং সে শনির নক্ষত্রে বসে আছে। যার ফলে রক্তপাত, দুর্ঘটনার মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কথাও বলেছিলাম ১২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মঙ্গল নীচস্থ থাকবে। সুতরাং এই ধরনের দুর্ঘটনা, মৃত্যু, রক্তপাত বা ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল। হয়তো তার অভিঘাত কিছুটা কমতে পারে। কারণ মঙ্গল নক্ষত্র পরিবর্তন করেছে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে। অর্থাৎ যখন আমি লেখাটি লিখেছি তখন মঙ্গল বুধের নক্ষত্রে। মনে রাখতে হবে এই সময় মঙ্গল–শনি এবং মঙ্গল–রাহুর যে কম্বিনেশন, তাতে দুর্ঘটনা, রক্তপাত বা যে কোনও অশুভ অভিঘাত প্রবল হয়। আর একটা জিনিস খেয়াল করার মত আছে। সেটা হল, মঙ্গল নীচস্থ অবস্থায় রয়েছে শনির নক্ষত্রে। কিন্তু সেখানে অর্থাৎ কর্কট রাশিতে এখন বৃহস্পতি অবস্থান করছে। যেহেতু বৃহস্পতি নৈসর্গিক শুভ গ্রহ, তাই এই দুর্ঘটনার্য় মৃত্যুর অভিঘাত কিছুটা হলেও সামাল দিয়েছে। বৃহস্পতি যদি এখানে না থাকতো তাহলে এই ঘটনা যে কতো মারাত্মক এবং আরও কতো প্রাণঘাতী হতো তা ভেবেই আতঙ্কিত হতে হয়। আবারও বলছি ১২ নভেম্বর রাত্রি ৮–১৯মিনিট পর্যন্ত সবাই সাবধানে চলুন, সতর্ক থাকুন। কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না। দুর্ঘটনার যোগ কিন্তু এখনও পিছু ছাড়েনি। হয়তো তার ধ্বংসাত্মক প্রভাব কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে আরও একটা কথা বলে রাখা ভালো, আগামী ৩১ অক্টোবর দিবা ১২–০২ মিনিটে বৃহস্পতি কর্কট রাশি ছেড়ে অতিচার গতিতে সিংহ রাশিতে প্রবেশ করবে। সুতরাং মঙ্গল এবার একলা নীচস্থ অবস্থায় কর্কট রাশিতে থাকছে আগামী ১২ নভেম্বর রাত ৮–১৯ মিনিট পর্যন্ত। সুতরাং অভিঘাত কম হলেও সতর্ক হয়ে চলুন। এখানে আরেকটা কথা বলে রাখি, কর্কট লগ্ন ও কর্কট রাশি এবং মকর লগ্ন ও মকর রাশির জাতক–জাতিকারা বেশি সাবধানতা অবলম্বন। যদি এই সময়ের মধ্যে কারও কোনও অপারেশনের তারিখ পূর্বনির্ধারিত থাকে, তবে তা অবশ্যই করাবেন। তাড়াতাড়ি সুস্থ হবেন। এরপর মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর কর্কট রাশি ছেড়ে পরবর্তী রাশি সিংহতে গমন করবে এবং ১০ নম্বর নক্ষত্র অর্থাৎ কেতুর নক্ষত্রে গিয়ে বসবে। শাস্ত্রে বলা আছে, ‘কেতু কুজবৎ’। ‘কুজ’ মানে মঙ্গল। অর্থাৎ কেতু মঙ্গলের ন্যায় আচরণ করবে। সুতরাং মঙ্গল সিংহ রাশিতে ঢুকেই দ্বিগুণ শক্তি সঞ্চয় করবে। বিশেষ করে সিংহ লগ্ন ও সিংহ রাশি এবং কুম্ভ লগ্ন ও কুম্ভ রাশির মানুষজন সাবধান হবেন। কারণ প্রায় প্রতিটি গ্রহ সন্নিবেশেই দেখা যাচ্ছে, রাহু বর্তমানে কুম্ভ রাশিতে মঙ্গলের নক্ষত্র অর্থাৎ ধনিষ্ঠায় অবস্থান করছে । এখানে রাহু ও মঙ্গল একে অপরকে বিপরীতে দিক থেকে দেখছে। এর ফলে দুর্ঘটনা, রক্তপাত ধ্বংস, মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। তবে এখানে একটা সুবিধা হল ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতি সিংহ রাশিতে প্রবেশ করবে। তাই সব ক্ষতির বিরুদ্ধে বৃহস্পতি ঢাল হয়ে দাঁড়াবে। ৮ নভেম্বর দিব ১১–২৮ থেকে অমাবস্যা লেগে যাচ্ছে (বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে)। ৯ নভেম্বর বেলা ১২–৩২ মিনিটে অমাবস্যা ছাড়বে। অমাবস্যার চন্দ্র এমনিতেই দুর্বল। এই সময় চন্দ্র থাকবে তুলা রাশিতে। সুতরাং তুলা লগ্ন ও তুলা রাশির জাতক–জাতিকারা অমাবস্যার দিনটি সাবধানে কাটাবেন। কারণ মঙ্গল তখন কর্কট রাশিতে থেকে চতুর্থ দৃষ্টিতে তুলা রাশি, চন্দ্র ও রবিকে দেখবে। এর ফলে অগ্নিভয়, দুর্ঘটনার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
