বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
বেলুড় মঠে মহাসাড়ম্বরে হয়ে গেল কুমারী পুজো পাঁজরে হাড় ভেঙে ফুসফুসে, চোরবাগানের ময়নাতদন্তের ভয়াবহ রিপোর্ট টাইগার শ্রফের উপর গুলি, হামলা, গ্রেপ্তার ৩ টাইগার শ্রফকে হামলায় দায়স্বীকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের

পুজোতে নিরিবিলি ছুটি কাটাবেন? ঘুরে আসতে পারেন এই জায়গাগুলিতে

05 October, 2026 3:25 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

পুজোর ঢাক থামলেই শুরু অফিস। আবার রোজকার জীবন। ছুটি যদি বেশি না পাওয়া যায়, তা হলেও চলবে। এই রাজ্যের ঝুলিতেই আছে কুয়াশা-মাখা পাহাড়, সমুদ্রের ধারে লাল কাঁকড়ার দৌড়, ম্যানগ্রোভের গভীর জঙ্গল আর লালমাটির পথ। শীতের নরম রোদে ক্লান্তি ছাড়াই ঘোরা যায়, তাই এখনই ছুটির পরিকল্পনা সেরে ফেলার সময়। কলকাতা থেকে একদিনে ঘুরে আসার জায়গা হোক বা কয়েক দিনের পাহাড়ি ছুটি, তালিকায় সবার জন্যই কিছু না কিছু থাকবে। পুজোতে অথবা পুজোর পর ঘুরে আসুন বাংলার ১৩টি ঠিকানায়।

ইতিহাস আর সংস্কৃতির টানে

কোচবিহার: রাজবাড়ির স্থাপত্য আর পুরনো মন্দিরের টানে ইতিহাসপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় কোচবিহার থাকবেই। শীতে শান্ত শহর আর চারপাশের সবুজ ঘুরে দেখার আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।

শান্তিনিকেতন: রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিমাখা এই জনপদে আছে বিশ্বভারতী, পৌষ মেলা, বাউলের গান আর লালমাটির পথ। শীতের আরামদায়ক আবহাওয়ায় বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড় পরিচয় হয়ে যায়।

জঙ্গল আর পাখির দেশে

সুন্দরবন: শীত এখানে যাওয়ার সেরা সময়। বোটে চড়ে নদী-খাঁড়ি ঘুরতে ঘুরতে ম্যানগ্রোভের ঘন জঙ্গল, নানা পাখি আর বন্যপ্রাণী চোখে পড়ে। ভাগ্য ভাল থাকলে নদীর চরে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও মিলতে পারে। অনেক পর্যটন সংস্থা প্যাকেজ দিচ্ছে, আবার চাইলে নিজেও পরিকল্পনা করে যাওয়া যায়।

চুপির চর: পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর এই জলাভূমি শীতে পরিযায়ী পাখিতে ভরে ওঠে। ছোট নৌকায় ভেসে পাখি দেখাই এখানকার আসল আকর্ষণ। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে পূর্বস্থলী পৌঁছে টোটো বা গাড়িতে যাওয়া যায়।

সমুদ্রের ধারে

তাজপুর: দিঘার ভিড় ভাল না লাগলে তাজপুর হতে পারে বিকল্প। কলকাতা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দূরের এই সৈকতে আছে ঝাউবন, দিগন্তজোড়া বালিয়াড়ি আর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা। নিরিবিলিতে কয়েক দিন কাটানোর পক্ষে আদর্শ।

হেনরি’স আইল্যান্ড: বকখালির কাছের এই দ্বীপে নির্জন সৈকত আর ম্যানগ্রোভের পরিবেশ মিলেমিশে আছে। লাল কাঁকড়ার পাশাপাশি শীতে পরিযায়ী পাখিও দেখা যায়, তাই পাখিপ্রেমীদের কাছেও জায়গাটি প্রিয়।

পাহাড়ের কোলে

দার্জিলিং: চিরকালীন আকর্ষণ আজও অটুট। শীতের পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া স্পষ্ট দেখা যায়। চা-বাগান, মেঘ-কুয়াশা আর টয় ট্রেনের যাত্রা ছুটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।

সিটং: দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের ভিড় এড়াতে চাইলে এই লেপচা গ্রামে যাওয়া যায়। প্রায় ১,৩৩৩ মিটার উচ্চতার এই গ্রাম কমলালেবুর বাগানের জন্য বিখ্যাত। শীতের কুয়াশাঘেরা সকাল আর শান্ত পরিবেশ এখানে অন্য এক আমেজ এনে দেয়।

তাকদা: একসময় ব্রিটিশদের ক্যান্টনমেন্ট ছিল এই কুয়াশায় মোড়া জনপদ। পুরনো ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, অর্কিড কেন্দ্র, তাকদা মঠ আর নির্জন পাহাড়ি পথ নিয়ে জায়গাটি ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে।

লাভা: কালিম্পং থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে, ২,১৩৮ মিটার উচ্চতায় ফার, বার্চ আর পাইনের ঘন জঙ্গল। ট্রেকিং আর পাখি দেখার জন্য জনপ্রিয় এই জায়গা শীতের কুয়াশায় আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

কলকাতার কাছেই, এক দিনের ছুটিতে

গনগনি: পশ্চিম মেদিনীপুরের শিলাবতী নদীর ধারে লাল মাটির খাঁজকাটা ভূদৃশ্য দেখে অনেকেই একে বাংলার ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ বলেন। কলকাতা থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ। গড়বেতা স্টেশন থেকে গাড়িতে যাওয়া যায়, থাকার জন্য কিছু রিসর্টও আছে।

রায়চক: হুগলি নদীর পাড়ের এই এলাকা সপ্তাহান্তের ছুটির জন্য সহজ গন্তব্য। এখান থেকেই ঘুরে নেওয়া যায় ডায়মন্ড হারবারের বাতিঘর, চিংড়িখালি দুর্গ ও রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম।

বাবুর হাট: গ্রামবাংলার আসল স্বাদ পেতে চাইলে এখানে আসা যায়। নদীর ধারে বিস্তীর্ণ ভেড়ি, সবুজ মাঠ আর মাটির বাড়ির মাঝে নৌকাভ্রমণ আর হাঁটাহাঁটি হয়। সঙ্গে মেলে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ।

প্রতিবেদন

UTSAB RC