দুর্গাপুজোর পাঁচদিন জমিয়ে পেটপুজো, খাওয়া সামলে কীভাবে ফিট রাখবেন নিজেকে?
ঢাকের আওয়াজ কানে এলেই পেটে যেন আরও একটা ঘণ্টা বেজে ওঠে। সকালে ভোগের খিচুড়ি, বিকেলে প্যান্ডেলের সামনে ফুচকা-ঘুগনি, রাতে রোল-চাউমিন, মাঝে কটকটির ডাক। এত কিছুর হাতছানি এড়ানো সহজ নয়। কিন্তু পাঁচ দিন যা খুশি খেয়ে গেলে ষষ্ঠী পেরোতে না পেরোতেই অম্বল, পেটখারাপ আর অবসাদ চেপে ধরতে পারে। আনন্দ পুরোটা নিংড়ে নিয়েও শরীর ঠিক রাখার কয়েকটা সহজ উপায় রইল।
আগে ভোগের কথা
খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুনি আর পায়েস, নিরামিষ হলেও পুজোর ভোগের স্বাদ অতুলনীয়। পদগুলো শরীরের জন্য ভালই, তবে পাত উপচে খেলে ঝামেলা বাড়ে।
- খাওয়ার আগে এবং পরে জল খেয়ে নিলে হজমে সুবিধা হয়।
- পায়েস বা মিষ্টি মেপে খান। বেশি চিনি তৎক্ষণাৎ চাঙ্গা করলেও কিছুক্ষণ পরেই ঝিমুনি আর ক্লান্তি আনে।
রাস্তার খাবার খাবেন কীভাবে
- দোকান বাছাই: যে দোকান পরিষ্কার আর যেখানে খদ্দেরের ভিড় লেগেই আছে, সেখানেই খান। ভিড় থাকা মানে খাবার টাটকা।
- তেলের দিকে নজর: একই তেলে বারবার ভাজা হচ্ছে বা ভাজা জিনিস পুড়ে কালো হয়ে গেছে, এমন খাবার একদম এড়িয়ে যান।
- পানীয়: কোলা বা রাস্তার শরবতের বদলে বোতলের জল কিংবা ডাবের জল বেছে নিন।
- স্বাস্থ্যবিধি: ফুচকা-চাট ভাগ করে নিয়ে একে অন্যের হাতে খাওয়ার অভ্যাস থেকে সরে আসুন, সংক্রমণের ভয় কমবে।
খাওয়ার ধরনেই বুদ্ধি খাটান
- ভাজার বদলে গ্রিল বা রোল: এগ রোলের জায়গায় কম মশলায় ভেজ বা চিকেন রোল নিতে পারেন।
- বেরোনোর আগে হালকা কিছু: প্যান্ডেল ঘুরতে বেরোনোর আগে কাটা ফল বা স্যালাড খেয়ে নিলে বাইরে তেলমশলা কম পেটে যাবে।
- একটু একটু করে চাখুন: সব পদ একসঙ্গে গিলে ফেলার চেয়ে প্রতিটা অল্প অল্প খেয়ে স্বাদ নিন।
- রাতে হালকা: দিনে ভারী খাওয়া হয়ে গেলে রাতে ফিরে খিচুড়ি, দই-ভাত বা স্যুপে পেট ঠান্ডা করুন।
জল খেতে ভুলবেন না
ঠাকুর দেখতে গিয়ে হাঁটা হয় অনেক, তাই ব্যাগে জলের বোতল রাখা জরুরি। কোলা বা বেশি কফির পরিবর্তে ডাবের জল, লেবুর জল বা গ্রিন টি শরীরকে হালকা রাখবে।
যাওয়ার আগে মনে রাখুন
ঝাল-মশলার আধিক্যে অম্বল হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তাই সঙ্গে অ্যান্টাসিড বা হজমের ওষুধ রাখুন। খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে বা স্যানিটাইজ করে নিন। আর এই কটা দিন ফুর্তিতে কাটাতে একটু হালকা শরীরচর্চা আর ঠিকঠাক ঘুমও চাই। পুজোর পরই শুরু হয়ে যাবে স্কুল-অফিস। তাই উৎসবের পাশাপাশি নিজেকে ফিট রাখাটাও অত্য়ন্ত জরুরি।
