পুজোর ডেস্টিনেশন হতে পারে সিকিমের লুকিয়ে থাকা স্বর্গ সোরেং
সুনেত্রা সেনগুপ্ত
পুজোর ছুটি মানেই ঘোরাঘুরি। মন কেমন করে বেরিয়ে পড়ার জন্য। তাই মনকে শান্ত করতে ঘুরে আসা যায় উত্তরবঙ্গের সোরেং থেকে। সোরেং-এর মূল আকর্ষণ হল এর অকৃত্রিম শান্ত পরিবেশ। ডেলো বা পেলিং-এর মতো চেনা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মতো এখানে গাড়ির হর্ন বা পর্যটকদের ভিড় নেই। সকালে ঘুম ভাঙবে নাম না জানা পাহাড়ী পাখিদের কলকাকলিতে। আর বারান্দায় এসে দাঁড়ালেই যদি ভাগ্য সহায় থাকে, তবে দেখা মিলবে তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার। পাহাড়ের খাঁজে গড়ে ওঠা ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, সাজানো চাষের জমি আর মেঘে ঢাকা উপত্যকা সোরেং-কে করে তুলেছে অনন্য। সবুজ পাহাড়ের শান্ত কোল, কুয়াশার লুকোচুরি আর কাঞ্চনজঙ্ঘার এক অপরূপ রূপ, এই নিয়েই সেজে উঠেছে পশ্চিম সিকিমের এক লুকিয়ে থাকা রত্ন ‘সোরেং’। পর্যটকদের চেনা ছকের বাইরে, কোলাহলমুক্ত এই অফবিট গন্তব্যটি ইদানীং ভ্রমণপিপাসুদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত সোরেং চারদিকের পাইন, রডোডেনড্রন আর ওক গাছে ঘেরা এক টুকরো স্বর্গ। সোরেং এর অন্যতম আকর্ষণ হল চাকুং ভিউ পয়েন্ট সোরেং থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ভিউ পয়েন্ট থেকে তিস্তা নদীর বয়ে চলা এবং দূর দিগন্তে পাহাড়ের সারি এক অদ্ভুত মাদকতা তৈরি করে। যাঁরা একটু অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য সোরেং বেশ কিছু ছোট ট্রেকিং রুটের হদিশ রয়েছে। বিশেষ করে বসন্তকালে যখন রডোডেনড্রন ফোটে, তখন এই পাহাড়ী পথগুলো লাল-গোলাপী রঙের ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে। লাহোডর লেক স্থানীয় মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র একটি হ্রদ। ঘন জঙ্গলের মাঝে শান্ত এই হ্রদের চারপাশের পরিবেশ মনকে এক লহমায় শান্ত করে দেয়।
সোরেং-এর আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে এখানকার মানুষদের সরল জীবনযাপনে। এখানে বড় বড় বিলাসবহুল হোটেল না থাকলেও রয়েছে অসাধারণ কিছু হোমস্টে। স্থানীয় লেপচা ও নেপালি পরিবারের আতিথেয়তা আপনার ভ্রমণের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দেবে। হোমস্টে-র জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেখতে গরম পাহাড়ি চা কিংবা রাতে কাঠের উনুনে রান্না হওয়া স্থানীয় অর্গানিক খাবার আর সেল রুটির স্বাদ দীর্ঘদিন জিভে লেগে থাকার মতো।
কীভাবে যাবেন সোরেং
শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সোরেং-এর দূরত্ব প্রায় ১১৫ কিলোমিটার। শেয়ার গাড়ি বা ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে জোরথান হয়ে সহজেই সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে সোরেং পৌঁছে যাওয়া যায়। মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে গেলে এখানে রডোডেনড্রনের মেলা দেখা যায় এবং আবহাওয়া থাকে চমৎকার। আবার অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের শীতের মরশুমে আকাশ থাকে একদম পরিষ্কার। এই সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য সেরা সময়।
যাঁরা যান্ত্রিক জীবন থেকে ছুটি নিয়ে দু-তিন দিন প্রকৃতির নির্জনতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চান, তাঁদের জন্য পশ্চিম সিকিমের এই অফবিট সোরেং আদর্শ এক ডেস্টিনেশন।
