বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচন: পুলিশি অভিযান ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

03 October, 2026 6:43 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, মালদহ: ৬ অক্টোবর মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচন। নির্বাচনের ঠিক আগেই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যদের গোপন ডেরায় রাজ্য পুলিশের হানা দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছেরাজনৈতিক তরজা। এই পুলিশি অভিযানকে গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেত্রী সাগরিকা সরকার। ৪৩টি আসনে মালদহ জেলা পরিষদে একসময়ে ৩৪টি আসন দখল করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যেখানে কংগ্রেস ৫টি এবং বিজেপি ৪টি আসন জিতেছিল। এর আগে লিপিকা বর্মন ঘোষ সভাধিপতি এবং এটিএম রফিকুল হোসেন সহকারী সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পর তৃণমূলের ১৯ জন সদস্য ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জরুরি সভা ডাকার আগেই পদত্যাগ করেন তৎকালীন সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ৫ জন কংগ্রেস সদস্য বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরের পক্ষ নেন। আগামী ৬ অক্টোবর নতুন করে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করেছে উচ্চ আদালত। নির্বাচনের আগে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যরা নিজেদের ঐক্য ধরে রাখতে একটি গোপন স্থানে ছিলেন। সেখানে হঠাৎ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হানা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। বিক্ষুব্ধ শিবিরের সাগরিকা সরকার পুলিশের এই অভিযানকে সরাসরি ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি দাবি করেছেন যে, বর্তমানে তৃণমূলের ১৯ জন এবং কংগ্রেসের ৫ জন মিলিয়েে মোট ২৪ জন সদস্যের সমর্থন তাদের পাশেই রয়েছে। ফলে সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তারাই জেলা পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই টানাপোড়েন থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে বিরোধী দল বিজেপি। বিজেপির মালদহ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় এই প্রসঙ্গে  জানান যে, এটি সম্পূর্ণ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সিন্ডিকেটের লড়াই। নিজের দলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের এই অনাস্থা ও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে তাদের কিছুই বলার নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একদিকে বিক্ষুব্ধদের সংখ্যাতত্ত্বের জোর এবং অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপানউতোর— সব মিলিয়ে মালদহ জেলা পরিষদের আগামী নির্বাচন রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik