নন্দীবাড়ির আটচালাতে সেজে উঠছেন মৃন্ময়ী উমা
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: সময় যত এগোচ্ছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে পুজোর আয়োজন ও জাঁকজমকের ধরন। তবে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও ঐতিহ্য, শিকড় এবং পারিবারিক পরম্পরাকে আঁকড়ে ধরে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে দুর্গাপুজো করে চলেছে ইসলামপুরের ঐতিহ্যবাহী নন্দী পরিবার। এবার ৫২ বছরে পা দিল এই বাড়ির দুর্গোৎসব। প্রতি বছরই পুজোর কদিন এই বাড়ির পুজোকে কেন্দ্র করে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা ইসলামপুর শহর। নন্দী বাড়ির চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য সুদেব নন্দী জানান, তাঁদের এই দুর্গাপুজোর শিকড় গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মাটির সঙ্গে। পূর্ববঙ্গ থেকেই এই পুজোর প্রচলন। যা পরবর্তীতে পারিবারিক পরম্পরা হিসেবে এপার বাংলায় নিয়ে আসেন তাঁদের পূর্বপুরুষরা। পরিবারের বিশ্বাস, তাঁদের গৃহকোণে মা দুর্গা ও মা কালী চিরকালই পরম যত্নে বিরাজমান। প্রবীণদের মুখে শোনা সেই পুরনো ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ করেই বর্তমান প্রজন্ম এই পুজোর ধারা টিকিয়ে রেখেছে। নন্দী বাড়ির দুর্গাপুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল মহা অষ্টমীর রাতে অনুষ্ঠিত বিশেষ কালীপুজো। পরিবারের সদস্যদের কাছে এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার বা রীতিনীতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের পারিবারিক আবেগ, আস্থা। পুজোর দিনগুলিতে পরিবারের সকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য সমস্ত ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে এসে একসঙ্গে হন। দেশের দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়-স্বজনরাও এই কদিনের টানে ঘরে ফিরে আসেন। পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ভোগের আয়োজন সব কিছুতেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় পরিবারের নতুন প্রজন্ম। পরিবারের প্রাচীন রীতি অনুযায়ী, ষষ্ঠীর দিন পুরনো প্রতিমা বিসর্জনের পর নতুন প্রতিমা মহাসমারোহে প্রতিষ্ঠা করা হয়। একসময় প্রতিমা গড়ার জন্য বাংলাদেশের শিল্পীরা নন্দীবাড়িতে আসতেন। শুধু তাই নয়, পুজোর বায়না ধরে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি সুদূর বাংলাদেশ থেকে ঢাক বাজাতে ঢাকিরাও আসতেন এই বাড়িতে। সময়ের পালাবদলে দেশভাগ, যাতায়াতের সমস্যা এবং বিভিন্ন কারণে সেই নির্দিষ্ট শিল্পীদের আসার প্রথা আজ আর বজায় রাখা সম্ভব না হলেও, পুজোর মূল পদ্ধতি, আচার আজও এক বিন্দুও পরিবর্তন হয়নি। ইতিমধ্যেই দুর্গাপুজোকে ঘিরে জোরকদমে তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে নন্দীবাড়িতে। প্রতিমা বায়না থেকে শুরু করে ঘরদোর পরিষ্কার, পুজোর বাজার— সব মিলিয়ে তুঙ্গে ব্যস্ততা। পুজোর দিনগুলোয় একে অপরের সান্নিধ্যে কাটানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্য ও দূরদূরান্তের আত্মীয়রা।
