থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ২৩, ব্যাংককে ২৬ লক্ষের বেশি মানুষ বিপর্যস্ত, বাড়ছে নদীর জল
ব্যাংকক: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত থাইল্যান্ড। লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে দেশের ২৯টি প্রদেশ এবং রাজধানী ব্যাংককে এখনও জলমগ্ন বহু এলাকা। সরকারি হিসাবে, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বন্যায় এখনও পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ। প্রায় ৯ লক্ষ ৪০ হাজার পরিবার বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
থাইল্যান্ডের দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে সামুত প্রাকান, চনবুরি, পাথুম থানি, আয়ুথায়া-সহ মধ্য ও পূর্ব থাইল্যান্ডের একাধিক অঞ্চল। শুধু সামুত প্রাকানেই প্রায় ৮.১৯ লক্ষ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ব্যাংককে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। শহরে জল নিষ্কাশনের কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন এবং ২৩৩টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ব্যাংককের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে টানা ভারী বৃষ্টিতে। মাত্র তিন দিনে রাজধানীতে প্রায় ৩২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা প্রায় এক মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টির সমান। বহু রাস্তা ও নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কর্মীসংকটে থাই এয়ারওয়েজের একাংশের বিমান বাতিল হয় এবং হাজার হাজার যাত্রীর লাগেজ আটকে যায়।
তবে বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। চাও ফ্রায়া নদী অববাহিকায় জলস্তর আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাও ফ্রায়া বাঁধ থেকে আগামী কয়েক দিনে প্রতি সেকেন্ডে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ঘনমিটার জল ছাড়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বন্যার আর্থিক ক্ষতিও যথেষ্ট। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১.৬ বিলিয়ন থাই বাট বা ৩৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন, খুচরো ব্যবসা ও পাইকারি বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে বৃষ্টি কিছুটা কমতে পারে। তবে দেশের কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঝুঁকি এখনও রয়েছে। ফলে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত থাইল্যান্ডে স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।
