পাকিস্তানে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হত কমপক্ষে ১৫
সংবাদদাতা, ইসলামাবাদ: শুক্রবারের প্রার্থনা চলছিল। জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। সেই সময়ই জোরাল বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় কোহাট পুলিশ লাইন্সের কাছের একটি মসজিদ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর জখম কমপক্ষে ৩০। তাদের সবাইকে দ্রুত ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের বের করার কাজ চলছে জোরকদমে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
রেসকিউ ১১২২– এর প্রধান বিলাল আহমেদ ফৈজি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই জোরাল ছিল যে, তার ফলে মসজিদের একাংশ ধসে গিয়েছে।। স্থানীয়েরাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল এসে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মসজিদের বাইরে দীর্ঘক্ষণ ধরে একটি গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। সেই গাড়িটিই একসময় সোজা মসজিদের মধ্যে ঢুকে যায়। পাখতুনখোয়া পুলিশের আইজি জুলফিকার হমিদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটিতে বিস্ফোরক বোঝাই করে আনা হয়েছিল। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ তা স্পষ্ট নয়। তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের পরই একদল সশস্ত্র জঙ্গি এলোপাথারি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশও। তারপরই জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। কোনও জঙ্গি সংগঠনই এখনও হামলার দায় স্বীকার করেনি। গোটা এলাকা কর্ডন করে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। হামলাটি আত্মঘাতী নাকি পূর্ব পরিকল্পিত বোমা বিস্ফোরণ, তা খতিয়ে দেখতে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ঘটনার কারণ সম্পর্কে রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে।
