১৫০ বছরের ঐতিহ্য: উখড়ার ঘোষ পাড়ায় সূচনা হল ভগবতী পুজোর
সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান: ঢাকের বোলে কাঠির আওয়াজ, কাঁসর-ঘণ্টার ধ্বনি আর অগণিত ভক্তের মহাসমারোহে উৎসবের মেজাজ পশ্চিম বর্ধমানের উখড়ার ঘোষ পাড়ায়। প্রায় ১৫০ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ঘোষ পাড়ার ভগবতী পুজো এ বছর ১৫০ বছরে পদার্পণ করল। প্রতি বছরের ন্যায় ঐতিহ্য বজায় রেখে মহাসপ্তমীর সকালে জমকালো ‘দোলা যাত্রা’-র মধ্য দিয়ে শুরু হলো চার দিনব্যাপী এই ভগবতী আরাধনা। পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা জানান, তাঁদের এই বিশেষ পুজোকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উন্মাদনা চরমে। দেবীকে ঘটা করে মণ্ডপে নিয়ে আসার জন্য আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী দোলা যাত্রার। ব্যান্ড বাজনা, ঢাক-ঢোল এবং শত শত ভক্তের উপস্থিতিতে রাজকীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেবীকে মণ্ডপে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রাচীন পুরাণ বর্ণনা অনুযায়ী, সত্যযুগের শেষে চেদি রাজবংশের রাজা সুরথ নিজ রাজ্য হারিয়ে এবং সমাধি বৈশ্য তাঁর পরিবার দ্বারা বিতাড়িত হয়ে মেধস মুনির আশ্রমে আশ্রয় নেন। মুনির পরম পরামর্শে তাঁরা নদীর তীরে মৃন্ময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে মহামায়া দেবী ভগবতীর তপস্যা শুরু করেন। বসন্তকালে এই পুজো আয়োজিত হয়েছিল বলে একে ‘বাসন্তী পুজো’ বলা হয়। শাস্ত্রীয় মতে, এটিই ছিল পৃথিবীর বুকে প্রথম ভগবতী পুজো। পরবর্তীতে ত্রেতাযুগে লঙ্কা জয় এবং সীতা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী ভগবতীর আবাহন জানান, যা ‘অকালবোধন’ নামে পরিচিত। এর পর থেকেই শরৎকালের শারদীয়া দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রসার ঘটে। উখড়ার ঘোষ পাড়ায় দুর্গোৎসবের নিয়ম মেনেই চার দিন ধরে দেবী ভগবতীর আরাধনা চলে। ঘোষ পাড়ার প্রবীণদের কথায়, “আজ থেকে ১৫০ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে ভক্তি ও নিষ্ঠা নিয়ে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন, আজ আমরা তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছি। এটি শুধু একটি পুজো নয়, সমগ্র উখড়াবাসীর আবেগ ও সামাজিক মেলবন্ধনের উৎসব।” চার দিনের এই উৎসবে আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে, যা উখড়ার এই প্রাচীন পুজোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
