বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

গণেশ চতুর্থীতে জন্ম হলে কেমন হবে ভবিষ্যৎ?‌

15 September, 2026 1:46 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

জ্যোতিষাচার্য উৎপলকুমার দাস

পঞ্জিকা মতে মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী। এই দিন চন্দ্র তুলা রাশিতে এবং বৃহস্পতি কর্কট রাশিতে তুঙ্গ অবস্থানে থাকবে। অর্থাৎ ঈশ্বর আরাধনার পক্ষে অত্যন্ত শুভ। কোনও নতুন কাজ শুরু করার ক্ষেত্রেও শুভ। কিন্তু কোনও কাজ শুরুর আগে কেন গণপতিকে স্মরণ করা হয়? আসলে যা কিছু করতে যাওয়া হচ্ছে, তা যেন শুভ এবং বিঘ্নমুক্ত হয়। এই কামনা থেকেই বিনায়ককে স্মরণ করা হয়। গণেশ সম্পর্কে বহু কাহিনি কথিত রয়েছে। সংক্ষেপে বলা যায়, গণেশ বিঘ্ন নাশক। প্রণাম মন্ত্রে দেবতার রূপ বর্ণনায় বলা হয়েছে,‘‌একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং। বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্।’‌ এছাড়াও, অন্য একটি প্রণাম মন্ত্রে রয়েছে, ‘‌বক্রতুণ্ড মহাকায় সূর্যকোটি সমপ্রভ। নির্বিঘ্নং কুরু মে দেব সর্বকার্যেষু সর্বদা।’‌ এখানে গজাননকে ‘‌বক্রতুণ্ড’‌ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ গণেশের শুঁড় বক্র। এর মধ্যমে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, আমাদের জীবনের চলার পথ সোজা নয়, আঁকাবাঁকা। তাঁর শরীর বিশাল অর্থাৎ ‘‌মহাকায়’‌। অর্থাৎ নিজের ভেতরের এবং বাইরের শক্তিকে দৃঢ় করতে হবে। এটিই সাফল্যের একটি ধাপ। ‘‌সূর্যকোটি সমপ্রভ’‌। অর্থাৎ কোটি সূর্যের মতো জ্যোতি বা উজ্জ্বলতা আসুক আমাদের সকলের জীবনে। নির্বিঘ্নং কুরু মে দেব সর্বকার্যেষু সর্বদা— অর্থাৎ সমস্ত শুভ কাজ যেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। কাজে যেন কোনও বাধা না আসে সেই কামনাতেই গণেশের আরাধনা করা হয়। দেখা যাচ্ছে গণেশের প্রণাম মন্ত্রে আমাদের মনের সব শুভ চাহিদাগুলিই লুকিয়ে রয়েছে। যেখানে শুধু বাইরের বাধা দূর করার কথা বলা হচ্ছে না। একই সঙ্গে ভয়, অস্থিরতা, অশুভ চিন্তা, অহংকার, লোভ, ক্রোধ প্রভৃতির মতো ভেতরের বাধাগুলিকেও দূরীভূত করার কথা বলা হচ্ছে। তার জন্য গণেশ আরাধনাই একমাত্র পথ।
এবার আসা যাক গণেশের পায়ের নীচে থাকা তাঁর বাহন ইঁদুর প্রসঙ্গে। চঞ্চলতা, অস্থিরতা, মুহূর্তের মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন ইঁদুরের প্রকৃতি। এই সমস্ত বিষয়গুলি গণেশের পায়ের তলায় বিসর্জন দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে ইঁদুরের প্রতীকে। সব সময় ঈশ্বরের সিদ্ধান্তে অটুট থাকতে হবে বা স্থির সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে।
এবার আসা যাক এই দিনটির গ্রহ সন্নিবেশ প্রসঙ্গে। আগেই বলা হয়েছে বৃহস্পতি জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ভক্তির কারক গ্রহ। অর্থাৎ ধর্মের ও আরাধনার গ্রহ। দিনটিতে বৃহস্পতি বিশেষ শুভ অবস্থানে রয়েছে। তাই এইদিনে জন্ম নেওয়া জাতক–জাতিকার বেশ কিছু ভাল গুণ থাকবে। শনি অবস্থান করছেন মীন রাশিতে, তবে বক্রী হয়ে। অর্থাৎ আজ যাদের জন্ম হবে, তারা তুলা রাশির জাতক। রাহু এবং শনি থাকবে বক্রী অবস্থায়। এর ফলেকর্মজীবন ভালো হবে। যদিও সফলতা পাওয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হবে। জাতক–জাতিকার মধ্যে প্রেম–প্রীতি–ভালবাসা প্রভৃতির আধিক্য থাকবে। কিন্তু রাহু ও চন্দ্র যেহেতু শুক্রর ওপর দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে, তাই প্রেম–প্রীতির মধ্যে একটা অস্থিরতা সবসময়ই থাকবে এবং তা স্থায়ী নাও হতে পারে। রাহু এই মুহূর্তে রবির ঘরে দৃষ্টি দিয়ে আছে। তাই আজকে জন্ম নেওয়া জাতক–জাতিকার পিতার ক্ষেত্রটি অস্থিরতায় ভরা থাকবে। জাতক–জাতিকার বুদ্ধিবৃত্তি শুভ হবে এবং তারা যে কোনও কাজ তাড়াতাড়ি করতে পারবে। যোগাযোগের মাধ্যম শুভ হবে, আর্থিক সঞ্চয়ের স্থানটিও বেশ ভালো। বয়স্ক মানুষের কাছ থেকে অর্থ বা সম্পত্তি প্রাপ্তির যোগ থাকবে। রাশির নবমে রয়েছে মঙ্গল। অর্থাৎ ভাগ্যস্থানটিতে বিশেষ শুভ অবস্থান না থাকলেও বৃহস্পতির দৃষ্টি থাকায় অশুভ প্রভাব অনেকটাই কমবে। পিতার হার্ট সংক্রান্ত সমস্যা হতে। জাতক জাতিকাদের বিদেশযাত্রা যোগ থাকবে। পায়ে চোট বা আঘাতের সম্ভাবনা থাকবে। বিবাহের ক্ষেত্রে সমস্যার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ‌

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik