Nepal Flash Floods: নেপালের বন্যা কি ভারতের অশনি সংকেত?
কলকতা: হিমালয় বাইরে থেকে শান্ত, কিন্তু সেই নিথর শ্বেতশুভ্রতার নীচেই কি নিঃশব্দে জমছে প্রলয়? পৃথিবীর ‘তৃতীয় মেরু’ নামে পরিচিত এই সুবিশাল বরফের সাম্রাজ্য আর আগের মতো নিষ্কম্প নেই। উত্তর আর দক্ষিণ মেরুর বাইরে এখানেই সঞ্চিত রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হিমবাহের ভাণ্ডার, যা প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের প্রাণের উৎস। অথচ তিব্বত-নেপালের সীমান্তের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই ভয়াল প্রশ্নকেই ফের সামনে এনে দাঁড় করাল—এই বরফের রাজত্ব কি তবে আজ ভেতর থেকে চুরমার হতে বসেছে?
৫২০০ মিটার উঁচুতে বরফ আর পাথরের বিশাল চাঙড় খসে নদীতে আছড়ে পড়তেই সৃষ্টি হয়েছিল প্রলয়ঙ্করি ঢেউ। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, হিমবাহ ভাঙাই এই সর্বনাশের সূচনা।
আরও পড়ুন: নেপালে মহাপ্রলয়: হিমালয় কি প্রতিশোধ নিচ্ছে?
আরও পড়ুন: নেপালের বিপর্যয়ে শোকপ্রকাশ মোদির, সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস
তবে বিপদ শুধু এটুকুই নয়। বিশ্ব উষ্ণায়নের বিষাক্ত আঁচে হিমালয়ের বুক চিরে জন্ম নিচ্ছে হাজার হাজার হিমবাহ-হ্রদ। পাথর আর মাটির ভঙ্গুর প্রাকৃতিক বাঁধের ওপারে ফুঁসতে থাকা এই জলরাশিকে বিজ্ঞানীরা বলছেন ‘গ্লেসিয়াল টাইম বোমা’। পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘GLOF’ বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’। ২০২৬ সালের ‘নেচার’ পত্রিকার গবেষণাও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে—হিমালয় ও কারাকোরামে হিমবাহ যত সঙ্কুচিত হচ্ছে, জলবোমার সংখ্যা ও পেটের আয়তন তত বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে।
ভারতের জন্য এই গর্জন নতুন নয়। ২০২১-এ উত্তরাখণ্ডের চমোলিতে হিমবাহ ভেঙে তপোবন প্রকল্প ধুলোয় মিশে যাওয়ার স্মৃতি আজও দগদগে। আর ২০২৩-এর ৪ অক্টোবর সিকিমের দক্ষিণ লোনাক হ্রদ ফেটে তিস্তার সেই গ্রাসকারী রূপ আমরা দেখেছি। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে গিয়েছিল সেতু, রাস্তা আর পাওয়ার প্ল্যান্ট। পাহাড়ি সীমান্ত পেরিয়ে এই বিপর্যয়ের রেশ কিন্তু পাহাড়ে থেমে থাকে না—পাহাড়ের বুক বেয়ে সেই প্রলয়ের ঢল সোজা আছড়ে পড়ে সমতলে। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং, জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি—তিস্তার অববাহিকায় থাকা সাধারণ মানুষের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য হিমালয়ের ওপাশের একটা ছোট ফাটলই যথেষ্ট।
২০২৩-এ সিকিম, ২০২৬-এ নেপাল—হিমালয় পর পর দু’বার দরজায় কড়া নাড়ল। ইসরো আর জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উপগ্রহ দিয়ে হাজার হাজার হ্রদের ওপর নজর রাখছে ঠিকই, কিন্তু অতিবৃষ্টি বা পাহাড় ধসে হঠাৎ আসা ঢেউকে থামানোর সাধ্য প্রযুক্তিরও নেই। বরফের পাহাড় তাই আর শুধু সৌন্দর্যের শান্ত ক্যানভাস নয়, এক ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি। প্রশ্ন একটাই—এই গ্লেসিয়াল টাইম বোমার পরবর্তী সলতেয় আগুন জ্বলবে কোথায়, আর কার ঘর ভাসবে সেই অতল গ্রাসে?
